২০২৪ সালের আগস্টের বন্যা: ফেনী-কুমিল্লায় আকস্মিক বন্যা, ২৩ প্রাণহানি
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট থেকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ ১১ জেলায় বন্যা; ৫.৭ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ২৩।

২০২৪ সালের ২০ আগস্ট থেকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ ১১ জেলায় বন্যা; ৫.৭ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মৃত ২৩।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। সংঘর্ষে বহু প্রাণহানির পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান; শেষে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়।

৪ নভেম্বর ২০২৩-এ মেট্রোরেল লাইন-৬-এর আগারগাঁও-মতিঝিল ৮.৭ কিলোমিটার অংশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ৫ নভেম্বর সকাল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়; উত্তরা-মতিঝিল যাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৩১ মিনিট।

২৮ অক্টোবর ২০২৩, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা-আনোয়ারা সংযোগকারী ৩.৩২ কিলোমিটার পানির নিচের টানেল 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল' উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল।

২০২৩ সালের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মোখা সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছে ১৪ মে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আঘাত করে; মিয়ানমারে প্রায় ৪৬০ জন নিহত হন এবং বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ উপকূলে লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয় ঢাকা মেট্রোরেলের প্রথম ধাপ (এমআরটি লাইন-৬); ২৯ ডিসেম্বর থেকে উত্তরা-আগারগাঁও রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু। এটি বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল।

২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয় পদ্মা নদীর উপর বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতুটি — দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালে ঋণ প্রত্যাহারের পর সেতুটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হয়।

২০২২ সালের ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লেগে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়; অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারান, যাদের ৯ জন দমকলকর্মী।

২০২১ সালের ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডসের কারখানায় ভয়াবহ আগুন; মূল গেট ভেতর থেকে লক থাকায় ৫২ শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২১ সালের ২২ মার্চ বিকালে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। ইউএনএইচসিআর নিশ্চিত করে, অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৪৫ হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট বিকালে বৈরুত বন্দরে দীর্ঘ বছর পড়ে থাকা ২,৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়। ২১৮ জন নিহত, ৭ হাজারের বেশি আহত এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হন।

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত হানে। ২৬ জনের মৃত্যু হয়; শেল্টারে স্থানান্তর ২৪ লাখের বেশি মানুষ।

৮ মার্চ ২০২০-এ আইইডিসিআর বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম ৩ রোগী শনাক্ত করে — এদের মধ্যে ২ জন ইতালি থেকে ফেরত আসা। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে লকডাউন জারি করা হয়।

২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘোষণা করেন, কোভিড-১৯ এখন মহামারি। তখন ১১৪টি দেশে ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি সংক্রমণ ও ৪,২৯১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

২০১৯-২০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের 'ব্ল্যাক সামার' আঘাত হানে। প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর ভূমি পুড়ে যায়; ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ হয়ে সুন্দরবন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ৯ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়।

২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। সরকারি হিসাবে ১,০০,২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হন; কমপক্ষে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের হাজি ওয়াহেদ ম্যানশনে রাসায়নিক গুদামে আগুন ধরে; আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৩টি ভবনে। ছিল ৭০-এর বেশি প্রাণহানি।

৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-র নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে জিতে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে। বিএনপি-জোট পায় মাত্র ৮ আসন; বিএনপি 'ফারসিক্যাল' বলে ফল প্রত্যাখ্যান করে। ভোটের দিন অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজারের ভিড় করা শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ২০১৫ সাল থেকেই চলে আসছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উদ্বোধনের কথা থাকলেও কর্মসূচি স্থগিত হয়; পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় পুনর্বাসন শুরু হয়।

২৯ জুলাই ২০১৮ ঢাকার কুর্মিটোলায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় ডিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজিব নিহত হন। নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা হাইওয়ে অবরোধ, চেকপোস্ট ও বিশাল মিছিল চালিয়ে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিশ্রুতি আদায় করে।

১২ মে ২০১৮, বাংলাদেশের প্রথম ভূ-স্থির যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে মহাকাশে উৎক্ষিপ্ত হয়। ১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে স্থাপিত উপগ্রহটি ১৫ বছরের পরিকল্পিত আয়ুষ্কালে দেশের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতকে সুবিধা দিচ্ছে।

২০১৮ সালের এপ্রিলে চাকরির ৫৬ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ৮ এপ্রিল শাহবাগে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সহিংসতায় শতাধিক আহত হয়; অক্টোবরে সরকার ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নির্মূলীয় অভিযান বলে বর্ণনা করে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভোরে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে প্রবল বৃষ্টিতে ভূমিধস হয়। এক রাতে অন্তত ১৩৩ জন প্রাণ হারান, আহত হন শতাধিক।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ২০ জন জিম্মি নিহত হন; নিহতের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। সেনাবাহিনীর অভিযানে ১৩ জন জিম্মি জীবিত উদ্ধার হয়।

২০১৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে ৫১.৯% ভোটে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায় দেয়। রিমেন সমর্থক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন।

২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বরিশাল-চট্টগ্রামের উপকূলে আঘাত হানে। ২৪ জনের মৃত্যু হয়; ৫ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকার কলাবাগানে একটি বাসায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় রূপবাণ ম্যাগাজিনের সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও ফটোগ্রাফার বন্ধু টনময়কে। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠনগুলো।

২০১৬ সালের ৪-৫ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা সুইফট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৯৫১ মিলিয়ন ডলার সরানোর খুব চেষ্টা করে; ১০১ মিলিয়ন ডলার বেরিয়ে যায় — ৮১ মিলিয়ন ফিলিপাইনের জাল অ্যাকাউন্টে, ২০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কা থেকে উদ্ধার।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে সিরিয়া ছেড়ে শরণার্থী হওয়ার সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়ায় (জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা)। এর সঙ্গে ৭৬ লাখ লোক দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত থাকায় মোট ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয়হীন।

২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল মাঝ দিনে নেপালের গোর্খা জেলায় ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৮,৯৬৪ জন নিহত ও ২১,৯৫২ জন আহত হন; ৩৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়।

৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ভোর ৫টার দিকে সুন্দরবনের শেলা নদীতে (চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকা) তেলবাহী ট্যাংকার 'সাউদার্ন স্টার-৭' ডুবে যায়। কুয়াশার মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৩.৫ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৪ সালের মার্চে পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যা দ্রুত সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে শেষ হওয়া পর্যন্ত মোট ২৮,৬১৬ জন আক্রান্ত ও ১১,৩১০ জনের মৃত্যু ঘটে।

৫ জানুয়ারি ২০১৪-র নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট ভোট বর্জন করে। ১৫৩ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যায়; আওয়ামী লীগসহ মিত্ররা ২৩৪ আসন পায়। ভোটের দিন অন্তত ২১ জন নিহত হন।

২০১৩ সালের ১৬ মে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন পটুয়াখালী উপকূলে আঘাত হানে। পশ্চিম-মধ্য উপকূলের ১০ জেলায় ১২,৮৫,৫০৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন; কমপক্ষে ১৩ জন প্রাণ হারান।

৫ মে ২০১৩ বিকেলে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের লক্ষাধিক সমর্থক জড়ো হয়। মধ্যরাতে পুলিশ, র্যাব ও বর্ডার গার্ডের অভিযানে সংঘর্ষ হয়; নিহতের সঠিক সংখ্যা আজও বিতর্কিত — সরকারি হিসাব ১১, মানবাধিকার সংস্থার হিসাব ৬০-এর কাছাকাছি।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারের রানা প্লাজা নামের আটতলা বাণিজ্যিক ভবনটি ধসে পড়ে। ধসে পোশাক কারখানার কর্মীদের অন্তত ১,১৩৪ জন নিহত হন — যা বিশ্ব পোশাক শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম মারাত্মক দুর্ঘটনা।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের দায়ে আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকার শাহবাগে ফাঁসির দাবিতে বিশাল আন্দোলন শুরু হয় — যা 'গণজাগরণ মঞ্চ' নামে পরিচিত হয়।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতের দিকে ঢাকার কাছে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১৭ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। জরুরি বহির্নির্গজন ও আগুন-প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবে মৃত্যু বেড়ে যায়।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে ধর্মীয় উসকানিদাতা একটি ফেসবুক ছবি ছড়িয়ে দিলে দাঙ্গা শুরু হয়। ছয় ঘণ্টার অগ্নিসংযোগে ১৮টি প্যাগোডা ও প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ধ্বংস হয়।

২০১২ সালের ২৭ জুলাই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ২০৪ দেশের ১০,৪৯০ জন ক্রীড়াবিদ ২৬টি খেলায় ঝড় তোলেন।

২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ বাতিল করে। কয়েক দিন পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।

২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের আব্বোটাবাদে মার্কিন নৌ-সিলদের গোপন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। প্রেসিডেন্ট ওবামা ওই রাতেই জাতির উদ্দেশে ঘোষণা দেন।

২০১১ সালের ১১ মার্চ বিকেলে জাপানের টোকুহোকু উপকূলে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়; এর ফলে ৪০ মিটার পর্যন্ত সুনামি আছড়ে পড়ে। দুই দেশজুড়ে প্রায় ১৯,৬০০ মানুষ মারা যান।

২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি মিসরের রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে শুরু হয়েছিল গণবিক্ষোভ। ১৮ দিনের অবরোধের পর ১১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন।

২০১০ সালের ৩ জুন রাতে পুরান ঢাকার নিমতলিতে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ থেকে আগুন ছড়িয়ে অন্তত ১২৪ জন নিহত হন। সরু গলি ও রাসায়নিক দ্রব্যের দোকানের ভারে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতিতে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানী ধ্বংস হয়ে যায়। হাইতি সরকারের হিসাবে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান; লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়।

২০০৯ সালের এপ্রিলে মক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (সুয়াইন ফ্লু) ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১১ জুন ডব্লিউএইচও বৈশ্বিক মহামারি (প্যান্ডেমিক) ঘোষণা করে; ৭৪ দেশে ৩০ হাজার মানুষ তখন আক্রান্ত বলে জানানো হয়।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে। বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি ঢোকে মানুষজন; বাংলাদেশে ১৯০ ও ভারতে ১৩৮ জনের প্রাণহানিসহ দুই দেশে ৩২৮ জন নিহত হন।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদস্যদের বিদ্রোহে ৭৪ জন নিহত হন — এর মধ্যে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। বাহিনীটির নাম পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।

২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ইতিহাসে তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট; শপথ দেখতে মলে ১৮ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৬৩টি আসনে জয় পায় — আওয়ামী লীগ একাই পায় ২৩০টি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ঐতিহাসিক ৮৭.১৩%।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাত থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার ১০ জঙ্গি মুম্বাইয়ের রেলস্টেশন, হোটেলসহ একাধিক স্থানে হামলা চালায়; ১৬৬ জন নিহত হন।

২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ১৫৮ বছরের পুরনো বিনিয়োগ ব্যাংক লেহম্যান ব্রাদার্স দেউলিয়া ঘোষণা করে। মার্কিন সরকারকে উদ্ধারে এগিয়ে না আসায় ডাও জোন্স সূচক ৫০৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক সঙ্কট শুরু হয়।

২০০৮ সালের ১২ মে চীনের সিচুয়ানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬৯,১৯৬ জন প্রাণ হারান ও ১৮,৩৭৯ জন নিখোঁজ হন। এটিই ছিল ১৯৭৬ সালের তাংশান ভূমিকম্পের পর দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প।

২০০৮ সালের ২ মে ঘূর্ণিঝড় নার্গিস মিয়ানমারের উপকূলে আঘাত হানে। সরকারি হিসাবে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়; ইরাবতী বদ্বীপই ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডরে সরকারি হিসাবে ৩,৪৪৭ জন নিহত হন। ২৮টি জেলায় ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০০৭ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা দুই দফা বন্যায় বাংলাদেশের ৪০টি জেলার প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ডিজিএইচএসের হিসাবে ৮৩৮ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

১৭ মার্চ ২০০৭, পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ভারত ১৯১ রানে অলআউট। বাংলাদেশ তিন কিশোর ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয়; ম্যাচ সেরা মাশরাফি মুর্তজা।

১১ জানুয়ারি ২০০৭ বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। দুই বছর পর — ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ — নির্বাচনে জয় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

১৭ আগস্ট ২০০৫, সকাল ১১টার কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় প্রায় ৫০০ ছোট বোমা প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে বিস্ফোরিত হয়। দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি।

২০০৫ সালের ৭ জুলাই সকালের ব্যস্ত সময়ে ৪ আত্মঘাতী বোমারু লন্ডনের তিনটি টিউব ট্রেন ও একটি বাসে বোমা ফাটায়; ৫২ জন নিহত ও প্রায় ৭০০ জন আহত হন।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর সকালে সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়; উৎপন্ন সুনামির ঢেউ ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ছিল। ১৪টি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মৃতের সংখ্যা প্রায় ২,৩০,০০০।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের এক পথসভায় গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আইভী রাহমান; শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে যান।

২০০৩ সালের ২০ মার্চ মার্কিন সমর্থিত জোট ইরাকে আগ্রাসন শুরু করে; ৯ এপ্রিল বাগদাদ দখল হয় এবং সাদ্দাম হুসেনের ক্ষমতার পতন ঘটে। অবরোধমুক্ত আক্রমণ দ্রুত সফল হলেও যুদ্ধের পরের অস্থিরতা ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট ২১৬ আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়; আওয়ামী লীগ পায় ৬২ আসন। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ।

১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সকালে ১৯ জঙ্গি ৪টি যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করে। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টাওয়ারে, একটি পেন্টাগনে ঢুকে পড়ে; চতুর্থটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ কসোভোতে সার্বিয়ার সেনা অভিযানের প্রতিবাদে ন্যাটো বোমা হামলা শুরু করে। ১১ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, ১২০ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ প্রত্যাহারের পর কসোভো জাতিসংঘের প্রশাসনে আসে।

১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়; ফলে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় দলটি। বৃষ্টিতে সংশোধিত লক্ষ্য পূরণের রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

১৯৯৪ সালের ৬ এপ্রিল রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট জুভেনাল হাবিয়ারিমানার বিমান কেবল বিধ্বস্ত হয়; পরদিন থেকে হুতু সরকার ও ইন্টেরাহামওয়ে মিলিশিয়া তুতসি ও মধ্যপন্থী হুতুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে — ১০০ দিনে প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ নিহত হন।

১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক কুয়েত দখল করে আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়ে। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারিতে ডেজার্ট স্টর্ম শুরু হয়; ২৪-২৮ ফেব্রুয়ারির স্থল অভিযানে কুয়েত সম্পূর্ণ মুক্ত হয়।

১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় পূর্ব জার্মানির সরকার মুখপাত্র গুন্টার শাবোভস্কি ভুলভাবে ভ্রমণ অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেন। জনতার চাপে বর্নহলমার স্ট্রাস সীমান্ত চেকপয়েন্ট খুলে দেওয়া হয়; ২৮ বছর পর পূর্ব-পশ্চিম বার্লিন মিশে যায়।

১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ধসে পড়ে; ডাও জোন্স সূচক এক দিনে ৫০৮ পয়েন্ট বা প্রায় ২২.৬ শতাংশ কমে যায়। টোকিও, লন্ডনসহ বিশ্বজুড়ে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এটিই 'ব্ল্যাক মানডে' নামে পরিচিত।

১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে চেরনোবিলের চতুর্থ চুল্লিতে নিম্ন শক্তিতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটে; রিঅ্যাক্টরের ছাদ উড়ে যায়। বিশ্বের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা।

১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারি নাসার চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল কক্ষপথে ওঠার ঠিক ৭৩ সেকেন্ডের মাথায় বিস্ফোরণ হয়ে যায়। সাত নভোচারীর সবাই প্রাণ হারান; তদন্তে সলিড রকেট বুস্টারের সিলিং বলা হয়।

১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানার স্টোরেজ ট্যাংক থেকে প্রায় ৪৫ টন মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস ফাঁস হয়ে যায়। ঘুমন্ত লক্ষাধিক মানুষ বিষ গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান; এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা।

১৯৮০ সালের ১৮ মে সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে মাউন্ট সেন্ট হেলেনসে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে; পরপরই ধ্বস, পার্শ্বীয় বিস্ফোরণ ও ছাইয়ের মেঘে ৫৭ জন প্রাণ হারান।

১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের বিপ্লব সমর্থক ছাত্ররা তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে ৫২ আমেরিকানকে জিম্মি করে। ১৯৮১ সালের ২০ জানুয়ারি আলজিয়ার্স চুক্তির পর জিম্মিরা মুক্তি পান; তাঁরা ৪৪৪ দিন বন্দি ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল সেনা কর্মকর্তা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে ঢুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে গুলি করে হত্যা করে। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতা নেন উপ-রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ।

১৯৭৫ সালের ২৯-৩০ এপ্রিল মার্কিন বাহিনী সাইগনে থেকে অপারেশন ফ্রিকোয়েন্ট উইন্ড শুরু করে হেলিকপ্টারে সাত হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়। ৩০ এপ্রিল সকালে ট্যাংক উত্তর ভিয়েতনামের পতাকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ (মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে) বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন পেয়ে সর্বোচ্চ আসনে জয়লাভ করে।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের গণপরিষদ দেশের সংবিধান গ্রহণ করে, যা ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। সংবিধানে রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রস্তাব করা হয়।

লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন; তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত লাখো জনতার শোভাযাত্রায় তাকে স্বাগত জানানো হয়।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাপতি নিয়াজী ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কমান্ডার আরজত সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিল সই করেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনা আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় সম্পন্ন হয়।

১৯৯১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বাইদ্যানাটহাটলায় বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়; সেখান থেকেই স্থানের নাম মুজিবনগর রাখা হয়। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়; ২৭ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে জিয়াউর রহমানসহ কর্মীরা স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। এ কেন্দ্র স্বাধীনতার সংগ্রামে প্রচারভিত্তিক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান প্রতীক।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযানের ঠিক আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বার্তাটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচার হয়; পরবর্তীকালে মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র তা স্বীকৃতি দেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার পর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাস ধরে মুক্তিবাহিনী ও সারা জাতি সংগ্রাম চালিয়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বিজয় অর্জন করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইটের নামে আক্রমণ চালায়; রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ইপিআর সদর দপ্তর ও হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলসহ বহু স্থানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়। এ ঘটনাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ২০ মিনিটের স্বতঃস্ফূর্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগ্রামের প্রস্তুতির আহ্বান জানান; ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব আসন জিতে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে; কিন্তু সামরিক শাসক ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলে আঘাত হানা ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়; এটি রেকর্ডকৃত ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপোলো ১১-এর ল্যান্ডার ঈগল চাঁদে অবতরণ করে এবং নিল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন। মহাকাশ দৌড়ের এই বিজয় কয়েক কোটি মানুষকে সরাসরি টেলিভিশনে দেখানো হয়।

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান শুরু হয় ১১ দফা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে; ২০ জানুয়ারি ছাত্র আসাদসহ কয়েকজনের মৃত্যু আন্দোলনকে তীব্রতর করে। অবশেষে ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান এবং আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়েন।

১৯৬৮ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চাপে মামলাটি প্রত্যাহার হয় এবং অভিযুক্তরা মুক্তি পান।

১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে লাহোরে আওয়ামী লীগ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যা পরে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' নামে খ্যাত। স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি ছিল পাকিস্তানের দুই অংশের বৈষম্য নিরসনের পথ।

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ২৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ওয়াশিংটন ডিসিতে 'মার্চ অন ওয়াশিংটন ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম'-এ যোগ দেন। সেখানে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম' ভাষণ আমেরিকার নাগরিক অধিকার ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

১৯৬২ সালের ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহল কিউবায় সোভিয়েত আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রমাণ পায়। প্রেসিডেন্ট কেনেডি নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন; তেরো দিনের আলোচনার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন ক্ষেপণাস্ত্র অপসারণে সম্মত হয়।

৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক ১ নামে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে। ৯৫ মিনিটে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা এই উপগ্রহ ওয়্যারলেস সংকেত পাঠায় এবং মহাকাশ প্রতিযোগিতার শুরুর সূচনা ঘটিয়ে দেয়।

১৯৫৫ সালের ১ ডিসেম্বর রোজা পার্কস মন্টগোমারির বাসে সাদা যাত্রীর জন্য আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান; পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কালো সম্প্রদায় ৩৮১ দিনের বাস বয়কট চালিয়ে ১৯৫৬ সালে বাসে পৃথকীকরণ-বিরোধী রায় আদায় করে নেয়।

১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ববঙ্গের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে, আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন। ভাষা-ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এটি যুগান্তকারী বিজয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন দুই পর্বতারোহী, যা মানবসাহসিকতার মাইলফলক।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে মিছিলে পুলিশের গুলিতে আবদুস সালাম, রফিক, আবুল বরকতসহ কয়েকজন ছাত্র নিহত হন। এ ঘটনা পূর্ব বাংলার জনগণের মাঝে ভাষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করে।

১৯৪৮ সালের ২৪ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনের সব স্থল ও জলপথ বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমান বাহিনী এক অভূতপূর্ব বিমান উড়ানের মাধ্যমে প্রায় ৩২ লাখ টন ত্রাণ পৌঁছে দেয়।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সু-কমান্ডিং বোমারু বি-২৯ এনোলা গে হিরোশিমায় 'লিটল বয়' নামক ইউরেনিয়াম বোমা নিক্ষেপ করে; তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে 'ফ্যাট ম্যান' বোমা ফেলা হয়। দুই বোমায় অন্তত পাঁচ লক্ষ মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে বহু বছরের নাগরিক প্যাথলজিক্যাল ও বিকিরণজনিত মৃত্যু ছাড়া ছিল।

১৯২৯ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে শুরু হওয়া পতন ২৯ তারিখ 'ব্ল্যাক টিউজডে'তে চূড়ায় পৌঁছে; ১৬ মিলিয়নের বেশি শেয়ার দর পতনে বিক্রি হয়। এই ক্র্যাশ মার্কিন ও বিশ্ব অর্থনীতিকে মহামন্দার দিকে ঠেলে দেয়।

১৯১৮-১৯ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি (স্প্যানিশ ফ্লু) বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে সংক্রামিত করে — জনগণের এক-তৃতীয়াংশ। আনুমানিক ৫ কোটি বা তার বেশি মানুষ মারা যায়; প্রতিবছরের তুলনায় স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়েও মারাত্মক ছিল এটি।

১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে টাইটানিক একটি আইসবার্গে ধাক্কা মারে। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ ডুবে যায়; প্রায় ২ হাজার ২০০ আরোহীর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
