রামু সহিংসতা ২০১২: ফেসবুকে ভুয়া ছবিকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধ পল্লিতে আগুন

- ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ রাতে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ফেসবুক ছবিকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বেধে যায়
- ছয় ঘণ্টার অগ্নিসংযোগে ১৮টি বৌদ্ধ প্যাগোডা, ৩টি বিহার ও ৫০টির মতো ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়
- একজন বৌদ্ধ যুবকের অ্যাকাউন্ট থেকে কুরআনের একটি ফটোশপ করা ছবি ছড়ালে সংঘটিত হয় হামলা; তদন্তে ছবিটি ভুয়া প্রমাণিত হয়
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামুতে কারফিউ জারি হয়; পরে দাঙ্গার মামলায় বহু মানুষ গ্রেপ্তার হন
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত থেকে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় গোটা বৌদ্ধ পল্লি আগুনে ঝলসে যায়। সন্ধ্যার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা মন্দির, বিহার ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করে। মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রামুর একাধিক গ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাসস্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়।
আগুনে পুড়ল প্যাগোডা
সরকারি হিসাবে ১৮টি প্যাগোডা (বৌদ্ধ মন্দির), ৩টি বিহার এবং প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাতভর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরদিন সকালে রামুতে কারফিউ জারি হয়। কক্সবাজার শহর ছাড়িয়ে চট্টগ্রামের কিছু এলাকায়ও হামলার চেষ্টা হলে প্রশাসন কড়া নোটিশ জারি করে।
ভুয়া ছবির উসকানি
ফেসবুকে প্রথমে একটি বৌদ্ধ যুবকের নামে কুরআনের আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হয়। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সংবাদমাধ্যম ও তদন্ত সংস্থা পরে নিশ্চিত করে, সেই ছবিটি ফটোশপে তৈরি করা হয়েছিল এবং জড়িত অ্যাকাউন্টগুলোও ভুয়া। তথ্যটি স্পষ্ট হওয়ার পরও সহিংসতা থামাতে দেরি হয়। এই ঘটনা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গভীর আঘাত আনে।
পরবর্তী
দাঙ্গার মামলায় শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পুনর্নির্মাণের সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুয়া তথ্য কত দ্রুত সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে, রামু সেই উদাহরণ। এই দুঃখজনক অধ্যায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
রামু দাঙ্গার ট্রিগার কী ছিল?
একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কুরআনের আপত্তিকর (ফটোশপ করা) ছবি ছড়িয়ে পড়ে। বৌদ্ধ যুবকের নামে করা হলেও তদন্তে প্রমাণিত হয় ছবিটি ভুয়া এবং অ্যাকাউন্টগুলোও নকল।
দাঙ্গার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়?
প্রশাসন রামু ও আশপাশের উপজেলায় কারফিউ জারি করে, সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে। ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দাঙ্গার মামলায় শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।