ইতিহাসনিশ্চিত [B]

১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি: অ্যাপোলো ১ কমান্ড মডিউলে আগুন, তিন নভোচারীর মৃত্যু ও মানব মহাকাশ অভিযানের পুনর্বিন্যাস

1 মিনিট পাঠ
১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি: অ্যাপোলো ১ কমান্ড মডিউলে আগুন, তিন নভোচারীর মৃত্যু ও মানব মহাকাশ অভিযানের পুনর্বিন্যাস
এক নজরে
  • ১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উড়োমন্ডল ত্রিশটি চার মিনিট পর বাতাসে পরিপূর্ণ অক্সিজেনে আগুন ধরে
  • কমান্ড পাইলট ভির্জিল গ্রিসম, সিনিয়র পাইলট এডওয়ার্ড হোয়াইট ও পাইলট রজার চাফি মারা যান; শব পরীক্ষায় কক্সকার্বন মনোক্সাইডে হার্ট অ্যারেস্ট চিহ্নিত
  • জবা মহাকাশ বোর্ডের তদন্তে অগুনের মূল কারণ হিসেবে উচ্চ চাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেন, দাহ্য নাইলন উপকরণ ও ভেতরে খোলা না যাওয়া প্লাগ দরজা চিহ্নিত হয়
  • দুর্ঘটনার পর নকশায় বদল আনা হয়—বাইরে খোলা দরজা, অগ্নি-প্রতিরোধী কাপড় ও অক্সিজেন-নাইট্রোজেন মিশ্রণ ব্যবহার
  • পঁচিশ বছর পর ১৯৯২ সালের জুলাইয়ে অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযান শিলাবরুতে ভাসা অবস্থায় পাওয়া যায়

১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ফ্লোরিদার কেপ কেনেডির ত্রিশ নম্বর উড়োমন্ডলে অ্যাপোলো কর্মসূচির প্রথম মানব মহাকাপোলানির প্রস্তুতিতে একটি কমান্ড মডিউলে আগুন ধরে। চার মিনিট আগে ক্রমাগত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যর্থ হয়; এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিন নভোচারী শিখা দেখতে পান।

কেবিনের ভেতর তখন বায়ুমণ্ডলের বদলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন চাপিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে চলাফেরার সময় হাতের পালসালো ভেতরে না ঢুকে যায়। এই উচ্চ চাপে কথোপকথনের নাইলনের জালের মতো উপকরণ সহজেই আগুন ধরায়। আর ভেতরের দরজা বাইরের চাপের বিরুদ্ধে খোলা যেত না বলেই বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ ছিল।

কমান্ড পাইলট ভির্জিল গ্রিসম, সিনিয়র পাইলট এডওয়ার্ড হোয়াইট ও পাইলট রজার চাফি তিনজনেই প্রাণ হারান। শব পরীক্ষায় মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে কক্সকার্বন মনোক্সাইডের উচ্চ ঘনত্বে হার্ট অ্যারেস্ট চিহ্নিত হয়।

মহাকাশ পরিষদে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্তে অগুনের সূত্র ধরা হয় একটি দুর্বল বৈদ্যুতিক তার; সঙ্গে ছিল উচ্চ চাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেন, ছড়ানো দাহ্য উপকরণ ও দ্রুত খোলা না যাওয়া দরজা। পরীক্ষাটি তখন বিপজ্জনক মনে করা হয়নি, তাই জরুরি উদ্ধার দলও হাজির ছিল না।

ফলে জনবহুল মহাকাপোলানি স্থগিত থাকে প্রায় সাড়ে বিশ মাস। কমান্ড মডিউলের নকশায় বদল আনা হয়—দরজা এখন বাইরে খোলে, নাইলনের বদলে অগ্নি-প্রতিরোধী কাপড় বসে এবং চলাফেরার সময় কেবিনে অক্সিজেন-নাইট্রোজেন মিশ্রণ থাকে। এই সংশোধনের পরেই পরবর্তী মানব মহাকাপোলানি সফল হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, নাসা, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

অ্যাপোলো ১ আগুন কোথায় এবং কখন হয়েছিল?

ঘটনাটি ১৯৬৭ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার কেপ কেনেডিতে ৩৪ নম্বর উড়োমন্ডলের উড়ানোর প্রস্তুতিতে ঘটেছিল। এটি ছিল প্রথমবারের মতো উড়ানোর প্রস্তুতি পরীক্ষা, কোনো প্রকৃত উড়ানো নয়।

তিন নভোচারীর মৃত্যুর কারণ কী ছিল?

শব পরীক্ষা অনুযায়ী প্রধান কারণ ছিল কক্সকার্বন মনোক্সাইডের উচ্চ ঘনত্বে হৃদযন্ত্র থেকে হার্ট অ্যারেস্ট। বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পরিবেশে দ্রুত ছড়ানো আগুনে তাঁদের স্পেসস্যুট ও অক্সিজেন নল গলে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়।

এই দুর্ঘটনার পর কী বদলেছিল?

জনবহুল নভোচারী মহাকাপোলানি স্থগিত রাখা হয়েছিল প্রায় সাড়ে বিশ মাস। পরে কমান্ড মডিউলে বাইরে খোলা দরজা, পোড়া-রোধী কাপড় ও সাধারণ বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন-নাইট্রোজেন মিশ্রণ যুক্ত করা হয় এবং প্রতিটি যানের নির্মাণ ও পরীক্ষার ধাপ নথিভুক্ত করা শুরু হয়।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।

নির্ভরযোগ্যতার স্তর: B · স্কোর 0.9

মন্তব্য দেখুন / লিখুন

মন্তব্য লিখতে চাইলে নিচের ঘরে লিখুন। প্রতিটি মন্তব্য যাচাই করার পরেই প্রকাশিত হয়।