ইতিহাসনিশ্চিত [B]

২০১৪-১৬ পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারি: ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত, ১১ হাজারের বেশি মৃত্যু

1 মিনিট পাঠ
২০১৪-১৬ পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারি: ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত, ১১ হাজারের বেশি মৃত্যু — ছবি: Presidencia de la República Mexicana (BY)
২০১৪-১৬ পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারি: ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত, ১১ হাজারের বেশি মৃত্যু — ছবি: Presidencia de la República Mexicana (BY)
এক নজরে
  • ২০১৪ সালের মার্চে গিনিতে শুরু হয়ে ইবোলা সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়াসহ তিন দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে
  • ডব্লিউএইচও ৮ আগস্ট ২০১৪ সালে এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে
  • ২০১৬ সালে শেষ হওয়া পর্যন্ত ২৮,৬১৬ জন আক্রান্ত হন এবং ১১,৩১০ জন প্রাণ হারান
  • প্রাণহানির হার প্রায় ৩৯ শতাংশের বেশি ছিল; নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও মালিতে ছোট ছোট প্রাদুর্ভাবও নিয়ন্ত্রণ করা হয়

২০১৪ সালের মার্চে পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দ্রুতই তা প্রতিবেশী সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে; কুয়াশাঘেরা সীমান্ত, দুর্বল স্বাস্থ্য কাঠামো এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকটের কারণে ভাইরাসটি শহর ও গ্রামে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

প্রাদুর্ভাবের বিস্তৃতি

সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ছিল গিনি, সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ৮ আগস্ট ২০১৪ সালে একে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। আক্রান্তরা জ্বর, রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ ব্যর্থতায় ভুগে মারা যেত; বিশেষ করে সংক্রমিত স্বাস্থ্যকর্মীরা একে অপরকে সংক্রামিত করায় ভয়াবহতা বাড়ে।

পরিসংখ্যান ও প্রাণহানি

প্রাদুর্ভাব শেষে ডব্লিউএইচওর হিসাবে মোট ২৮,৬১৬ জন আক্রান্ত হন এবং ১১,৩১০ জন প্রাণ হারান, যাতে মৃতের হার প্রায় ৩৯ শতাংশের বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিলেন অসামঞ্জস্যভাবে বেশি। নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও মালিতে ছোট প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ত্রাণ, হাসপাতাল, সুরক্ষা সরঞ্জাম ও টিকা কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সালের শুরুতে ভ্যাকসিন পরীক্ষা চলে; ২০১৬ সালের জুনে কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথ খোলা হয়। ২০১৬ সালের জুনে ডব্লিউএইচও শেষ প্রাদুর্ভাবকে নিয়ন্ত্রণে ঘোষণা করে।

পাঠ

এই মহামারি প্রমাণ করে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও দেশীয় প্রতিক্রিয়ার বিলম্ব মহামারিকে কতটা ভয়াবহ করতে পারে। পরে আফ্রিকায় রোগ নজরদারি ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং ইবোলা ভ্যাকসিনের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

ইবোলা ছড়ানোর প্রধান উপায় কী ছিল?

সংক্রমিত মানুষের রক্ত, শরীরের তরল বা দূষিত জিনিসের সংস্পর্শে; অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, দাফন রীতি ও চলমান যুদ্ধ সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়।

এই প্রাদুর্ভাব কেন এত বড় হলো?

পশ্চিম আফ্রিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল ছিল এবং সংক্রমণ দ্রুত শহরে পৌঁছায়; ডব্লিউএইচও স্বীকার করে প্রথম দিকে প্রতিক্রিয়া ধীর হয়েছে।