ইতিহাসনিশ্চিত [B]

২৬ ডিসেম্বর ২০০৪: ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্প ও মেগা-সুনামি

1 মিনিট পাঠ
২৬ ডিসেম্বর ২০০৪: ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্প ও মেগা-সুনামি — ছবি: Ahron de Leeuw (BY)
২৬ ডিসেম্বর ২০০৪: ভারত মহাসাগরের ভূমিকম্প ও মেগা-সুনামি — ছবি: Ahron de Leeuw (BY)
এক নজরে
  • সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯.১-৯.৩ মাত্রার ভূমিকম্প
  • সুনামিতে আক্রান্ত প্রধান দেশ: ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত, থাইল্যান্ডসহ ১৪ দেশ
  • মোট প্রাণহানি প্রায় ২,২৭,০০০-২,৩০,০০০; সবচেয়ে বেশি আচেহ (ইন্দোনেশিয়া)
  • বাংলাদেশের উপকূল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকে; সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বক্সিং ডে-র সকালে বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলের শোইলি দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরে ৯.১ থেকে ৯.৩ মাত্রার এক ভূমিকম্প আঘাত হানে — যা ১৯৬০ সালের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রেকর্ডকৃত ভূমিকম্প।

ভূমিকম্প ও সুনামি

ভূমিকম্পের ফলে ভারত মহাসাগরে বিশাল সুনামি সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের উচ্চতা অনেক জায়গায় ৩০ মিটারের বেশি পৌঁছে; ইন্দোনেশিয়ার আচেহর উপকূলে ঢেউ তিন কিলোমিটারের বেশি ভেতরে ঢুকে যায়। ভূমিকম্পের প্রায় ৮ মিনিটের মধ্যেই দ্বীপগুলোর তীরে ঢেউ আছড়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুনামি শ্রীলঙ্কা, ভারত, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, সোমালিয়াসহ ১৪টি দেশের উপকূলে আঘাত হানে।

প্রাণহানি ও ক্ষতি

মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,২৭,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ — এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে। শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৩৫,০০০, ভারতের তামিলনাড়ু ও আন্দামান-নিকোবরে প্রায় ১৮,০০০-২০,০০০ এবং থাইল্যান্ডে প্রায় ৮,০০০ মানুষ প্রাণ হারান। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়; মাছ ধরার নৌকা, স্কুল, হাসপাতাল ও পর্যটন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।

বাংলাদেশের পাঠ

তখন বাংলাদেশের উপকূল প্রায় অক্ষত ছিল, কারণ ঢেউ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসতে আসতে শক্তি হারায়। তবে এই ঘটনা বাংলাদেশকে উপকূলীয় সতর্কতা ও বহিঃ-সমীক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করতে শেখায়। সুনামির পর সমুদ্রপৃষ্ঠের থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও আন্দামানে সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে, ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

প্রশ্নোত্তর

সুনামির প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কেন ইন্দোনেশিয়াকে?

ভূমিকম্পের উৎসস্থল আচেহ প্রদেশের খুব কাছেই ছিল; মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ঢেউ তীরে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল?

পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়লেও উপকূলীয় এলাকায় বড় প্রাণহানি এড়ানো যায়; তবে প্রস্তুতি ও সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।