মিসরের বিপ্লব ২০১১: তাহরির স্কোয়ারে জনতার জয়, ৩০ বছরের শাসনের পতন

- ২৫ জানুয়ারি ২০১১ 'ক্রোধের দিন'-এ শুরু হয় মিসরের গণ আন্দোলন; তাহরির স্কোয়ারে লাখো মানুষ জড়ো হয়
- ১৮ দিনের বিক্ষোভের পর ১১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক পদত্যাগ করেন
- বিক্ষোভে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ভাষায় ৮৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন
- বিক্ষোভের ঢেউ অন্যান্য আরব দেশেও ছড়িয়ে পড়ে; এই ঢেউই 'আরব বসন্ত' নামে পরিচিত হয়
২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি মিসরের জাতীয় পুলিশ দিবসের দিন রাজধানী কায়রোসহ সারা দেশে ‘ক্রোধের দিন’ নামে এক বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়। গোটা দেশে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি আর ৩০ বছরের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কায়রোর কেন্দ্রস্থল তাহরির স্কোয়ার হয়ে ওঠে আন্দোলনের মঞ্চ।
১৮ দিনের ঘেরাও
বিক্ষোভ ভেঙে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে; কিন্তু প্রতিদিনই জনতা বেড়ে ওঠে। ২৮ জানুয়ারি ‘ক্রোধের শুক্রবার’-এ লাখ লাখ মানুষ স্কয়ারে জড়ো হয় এবং পুলিশ গুটিয়ে যায়। সামরিক বাহিনী এলে জনতা তাদের পাশে চেয়েছিল; সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ থাকায় সরকারের ভিত কেঁপে ওঠে। মিশরীয় ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সরকার, তবুও আন্দোলন থামেনি।
মুবারকের পতন
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১১, ১৮ দিনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি ওমর সুলেমান রেডিওতে বিবৃতি পড়ে শোনান—তিন দশকের হোসনি মুবারকের শাসনের অবসান ঘটে। পদত্যাগের খবরে তাহরির স্কোয়ারসহ সারা দেশে উল্লাসের ঢেউ ওঠে। মানুষ এই জয়কে মুক্তির উৎসব হিসেবে উদযাপন করে।
আরব বসন্ত
মিসরের এই বিদ্রোহ থেকেই ‘আরব বসন্ত’-এর শব্দটি জনপ্রিয় হয়; একই বছরে তিউনিসিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও বাহরাইনেও গণ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী পথ সহজ ছিল না—সামরিক শাসন, অর্থনৈতিক সংকট চলতে থাকে। তথাপি মিসরের সেই ১৮ দিন মধ্য প্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, আল-জাজিরা, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
মিসরে বিক্ষোভের কারণ কী ছিল?
দীর্ঘ ৩০ বছরের স্বৈরশাসন, দুর্নীতি, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও অসহনীয় সংকট; পাশাপাশি অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া আন্দোলনকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিপ্লবের ফল কী ছিল?
মুবারক পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা চলে যায় সামরিক বাহিনীর হাতে; পরে নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়নি, ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হয়।