২০১৭ সালে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামের ভূমিধস: এক রাতে অন্তত ১৩৩ প্রাণহানি

- ১২-১৩ জুন ২০১৭ রাতের টানা বৃষ্টিতে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস
- নিহত: রাঙ্গামাটিতে প্রায় ৯৮, চট্টগ্রামে ২৯-৩০, বান্দরবানে ৬; মোট ১৩৩ জনের বেশি
- পাহাড় কেটে বসতি ও অবৈধ আবাসনের কারণে ক্ষতি বেড়ে যায়; সেনাবাহিনী উদ্ধারকাজে নামে
- মৃতের মধ্যে পাহাড়ি ও নিম্নবিত্ত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি; অনেক পর্যটকও প্রাণ হারান
২০১৭ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অবিরাম বৃষ্টি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোকে কর্দমাক্ত করে তোলে। ১২ জুন রাত থেকে ১৩ জুন ভোর পর্যন্ত চলে টানা মুষলধারে বৃষ্টি; ভোরের আলো ফোটার আগেই একাধিক পাহাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি, মসজিদ ও বাজার চাপা পড়ে যায়।
প্রাণহানি
রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি — প্রায় ৯৮ জন; চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় ২৯-৩০ জন এবং বান্দরবানে ৬ জন প্রাণ হারান। মোট নিহতের সংখ্যা ১৩৩ জনের বেশি। মৃতদের মধ্যে পাহাড়ি বাসিন্দা, নিম্নবিত্ত শ্রমিক ও কিছু পর্যটকও ছিলেন। শতাধিক মানুষ আহত হন এবং বহু মানুষ গৃহহীন হন।
কারণ ও উদ্ধার
পাহাড়ের ঢাল কেটে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও আবাসন ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন। ভারী বৃষ্টির পানি পাহাড়ে জমে চাপ সৃষ্টি করে মাটি ধসে পড়ে। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, দমকল ও পুলিশ নামে; ট্রাক্টর-এক্সকাভেটর দিয়ে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজা হয়।
পরবর্তী
ঘটনার পর সরকার পাহাড় কেটে নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড় কাটা ও বসতি অব্যাহত থাকে। এই ভূমিধস পার্বত্য অঞ্চলের বসবাস ও নগরায়ণের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সূচনা করেছিল।
সূত্র: সিএনএন, দ্য স্ট্রেইটস টাইমস, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
ভূমিধস কেন এত প্রাণঘাতী হলো?
পাহাড়ের ঢাল কেটে বাড়ি ও বসতি গড়ে ওঠায় ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধসে পড়ে; ঘরগুলো পাহাড়ের নিচে থাকায় চাপা পড়েন মানুষ।
কোন কোন জেলায় ক্ষতি বেশি?
রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৯৮), এরপর চট্টগ্রাম (২৯-৩০) ও বান্দরবানে (৬)।