৯ ডিসেম্বর ২০১৪: সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়া

- ৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ভোর ৫টা; কুয়াশায় মোঙ্গলার কাছে শেলা নদীর সাঙমোয়াড়ি এলাকায় সংঘর্ষ
- ট্যাংকার 'সাউদার্ন স্টার-৭'-এর কার্গো ছিল প্রায় ৩.৫৮ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল
- অয়েল ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে; তীর, গাছপালা ও জলচর প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- স্থানীয় বাসিন্দা, নৌবাহিনী ও প্রশাসন মিলে ৬৮,২০০ লিটার তোলা হয়; মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে তলানির পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়
২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোরে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে শেলা নদীতে এক দুর্ঘটনা ঘটে যা পরিবেশবাদীদের জন্য টানা কয়েক মাসের উদ্বেগ তৈরি করে। মোঙ্গলা বন্দরের কাছাকাছি, চাঁদপাই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সীমানায়, কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে পণ্যবাহী একটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে তেলবাহী ট্যাংকার ‘সাউদার্ন স্টার-৭’ ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার বিবরণ
এসময় ট্যাংকারটিতে প্রায় ৩.৫৮ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল ছিল, যা নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। তেলের আস্তরণ দ্রুত ছড়িয়ে ৩৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা আচ্ছাদন করে; নদীর দুই তীর ও এর আশপাশের খাল-বিল কালো হয়ে ওঠে। সুন্দরবনে বসবাসকারী শুশুক, ইরাবতী ডলফিন ও অগণিত ছোট মাছের আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ে।
উদ্ধার তৎপরতা
দুর্ঘটনার পরপরই সরকার শেলা নদীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়; স্থানীয় জেলেরা হাতে-কাপড়ে তেল তুলতে নামে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও মালিকপক্ষকে নিয়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬৮,২০০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয় — যা মোট ছড়িয়ে পড়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশেরও কম। বন বিভাগ জাহাজ মালিকদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা দায়ের করে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির প্রতিনিধি দল এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে; প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনে তেল-দুর্ঘটনা মোকাবিলার সক্ষমতা নেই এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
ঐতিহ্য ও পাঠ
দুর্ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয় — লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা ও বাংলাদেশের পরিবেশের সুরক্ষার প্রতীক। দিনের পর দিন মানবতাবিবর্জিত তেল-দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, জাতিসংঘ রিলিফওয়েব মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দি ডেইলি স্টার।
প্রশ্নোত্তর
তেল-ছড়িয়ে পড়া থেকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী ছিল?
সুন্দরবন অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি বছরের প্রাচীন জন্মগত বাস্তুতন্ত্র, বিরল ইরাবতী ও শুশুক-প্রজাতির ডলফিনগুলো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিতে।
পরে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়?
শেলা নদীতে ট্যাংকার চলাচল নিষিদ্ধ হয়; বন বিভাগ জাহাজ মালিকদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মামলা করে এবং জাতিসংঘের সহায়তায় তেল-পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলে।