ইতিহাসনিশ্চিত [B]

টাইটানিকের ডুবে যাওয়া ১৯১২: 'অডুব্য' জাহাজের অভিশপ্ত প্রথম যাত্রায় হাজারো প্রাণহানি

1 মিনিট পাঠ
টাইটানিকের ডুবে যাওয়া ১৯১২: 'অডুব্য' জাহাজের অভিশপ্ত প্রথম যাত্রায় হাজারো প্রাণহানি — ছবি: Scottish Government (BY)
টাইটানিকের ডুবে যাওয়া ১৯১২: 'অডুব্য' জাহাজের অভিশপ্ত প্রথম যাত্রায় হাজারো প্রাণহানি — ছবি: Scottish Government (BY)
এক নজরে
  • ১৮ এপ্রিল ১৯১২ সালে টাইটানিক সাউদাম্পটন থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঐতিহাসিক প্রথম যাত্রা শুরু করে
  • ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিকে আইসবার্গের ধাক্কায় জাহাজের পাশ ছিঁড়ে যায়; সকাল ২টা ২০ মিনিটে জাহাজ পুরোপুরি ডুবে যায়
  • প্রায় ২ হাজার ২০০ আরোহীর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রাণ হারান; লাইফবোটের সীমিত সংখ্যাই বড় ভূমিকা রাখে
  • দুর্ঘটনা পরে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা আইন (এসওএলএএস) তৈরির পথ প্রশস্ত করে

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল সাউদাম্পটন বন্দর থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে আরএমএস টাইটানিক। সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ, যা অনেকেই ‘ডুবন্ত নয় এমন’ জাহাজ বলে প্রচারণা করেছিলেন। মাত্র চার দিনের মাঝেই সেই দাবি বদলে যায়।

অভিশপ্ত রাত

১৪ এপ্রিল রাত около ১১টা ৪০ মিনিটে টাইটানিক একটি বিশাল আইসবার্গের সঙ্গে আঘাত করে। ধাক্কা জাহাজের ডান পাশের বাল্কহেডের ছয়টি অংশে জল ঢুকিয়ে দেয়। প্রাথমিকভাবে যাত্রীরা বুঝতে পারেননি কতটা ভয়াবহ অবস্থা; কিন্তু জাহাজের নকশা এমন ছিল যে পাঁচটির বেশি বাল্কহেড প্লাবিত হলে জাহাজ টিকে থাকতে পারত না।

ডুবে যাওয়া

রাত ২টা ২০ মিনিটে টাইটানিক উত্তর আটলান্টিকের হিমশীতল জলে পুরোপুরি ডুবে যায়। জাহাজে মোট ২০টি লাইফবোট ছিল; তাতে দুই হাজারেরও বেশি যাত্রীর মাঝে মাত্র ৭০৫ জনের মতো মানুষ ঠাঁই পায়। পানিতে পড়া শত শত মানুষ বরফকঠিন জলে প্রাণ হারান; ‘আর পথ নেই’ বলে নীয়িলি ডুবে যাওয়া নারী ও শিশুদের জন্য লাইফবোট ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উদ্ধার ও পরবর্তীপ্রতিক্রিয়া

পাশের জাহাজ কারপেথিয়া ঘটনার অনেক ঘণ্টা পর পৌঁছে বেঁচে যাওয়া ৭০৫ জনকে নিউ ইয়র্ক বন্দরে পৌঁছে দেয়। মোট প্রাণহানি আনুমানিক ১ হাজার ৪৯০ থেকে ১ হাজার ৫১০ পর্যন্ত। ট্র্যাজেডিটি গ্রেপ্তার করায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা আইন এসওএলএএস-১৯১৪ তৈরি হয়, যা সমুদ্রে লাইফবোট, ডিস্ট্রেস কল, রেডিও ও বরফ-তথ্য আদানপ্রদানের নিয়ম করে দেয়।

চিরন্তন চিত্র

টাইটানিকের কাহিনী চলচ্চিত্র, বই ও গবেষণায় চির অমর। ১৯৮৫ সালে সমুদ্রতল থেকে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যাওয়ার পর আরও গবেষণা শুরু হয়; জাহাজের মানবিক ত্রুটি, গর্বিত প্রকৌশল ও রোমাঞ্চের মুহূর্ত আজও মানুষের প্রশ্ন আর কৌতূহলের কেন্দ্র।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, হিস্ট্রি চ্যানেল, বিবিসি হিস্ট্রি।

প্রশ্নোত্তর

টাইটানিক প্রায় সবগুলো লাইফবোট নিয়ে ডুবল কেন?

জাহাজে মোট ২০টি লাইফবোট ছিল, যা ২ হাজার ২০০ আরোহীর জন্য অপর্যাপ্ত; তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী লাইফবোটের সংখ্যা জাহাজের যাত্রীধারণের উপর ভিত্তি করে ঠিক করা হতো না।

যারা বেঁচে ছিলেন তাদের বাঁচাতে কারা এগিয়ে আসে?

পাশেই থাকা কারপেথিয়া জাহাজে ৭০৫ জনের মতো বেঁচে যাওয়া আরোহী উঠে নেওয়া হয়; ১৮ এপ্রিল তারা নিউ ইয়র্কে পৌঁছায়।