১১ মার্চ ২০১১ জাপানের টোকুহোকু ভূমিকম্প ও ফুকুশিমা সুনামি

- ১১ মার্চ ২০১১, দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প; জাপানের রেকর্ডে সবচেয়ে বড়
- সুনামির ঢেউ ওমোইনামি উপকূলে ৯.৩ মিটার উচ্চতা; কোবোরিনাইয়ে রান-আপ ৩০-৪০ মিটার
- নিহত প্রায় ১৯,৬৩০; নিখোঁজ ~২,৫৬০; আহত ৬,২০০-র বেশি; ৪ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত
- ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি রিঅ্যাক্টর মেল্টডাউন; ইনেস লেভেল ৭
২০১১ সালের ১১ মার্চ দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের টোকুহোকু অঞ্চলে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে — দেশটির রেকর্ড করা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম। ভূমিকম্পের কিছু সময় পরেই উপকূলে আছড়ে পড়ে বিশাল সুনামি।
সুনামি
সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা সোমা উপকূলে ৯.৩ মিটার ও ওফুনাতোতে ৮ মিটারের বেশি পরিমাপ করা হয়; আয়াতে কোবোরিনাই বন্দরে রান-আপ ৩০ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ঢেউগুলো কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে সাড়ে তিন লাখের বেশি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়।
প্রাণহানি
মিয়াগি, ইওয়াতে ও ফুকুশিমা প্রিফেকচারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৯,৬৩০; নিখোঁজ প্রায় ২,৫৬০ এবং আহত ৬,২০০-এর বেশি। বাস্তুচ্যুত হয় ৪ লাখের বেশি মানুষ। আমেরিকান রেড ক্রসসহ বিশ্বজুড়ে ত্রাণ কার্যক্রম চলে।
ফুকুশিমা
সুনামিতে পাওয়ার লাইনের ঝড় ছিড়ে গেলে ও জরুরি জেনারেটর প্লাবিত হলে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। ৩টি রিঅ্যাক্টরে মেল্টডাউন ও হাইড্রোজেন বিস্ফোরণ ঘটে; বিকিরণ ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। চেরনোবিলের পরে এটি পারমাণবিক দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ পর্যায় (ইনেস লেভেল ৭)।
পাঠ
সুনামি প্রমাণ করে, পূর্ব-সতর্কতা ও উপকূলীয় বাঁধও প্রাকৃতিক শক্তির সামনে সীমিত; ফুকুশিমার অভিজ্ঞতা বিশ্বের পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
সূত্র: জাপান আবহাওয়া সংস্থা, ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
সুনামির উচ্চতা কত ছিল?
আইওয়াতে কোবোরিনাই মাছ ধরার বন্দরে রান-আপ ৪০ মিটার পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়; সোমা উপকূলে ঢেউ ৯ মিটারের বেশি।
ফুকুশিমার দুর্ঘটনায় কী হয়েছিল?
সুনামিতে পাওয়ার লাইন নষ্ট ও জেনারেটর প্লাবিত হলে কুলিং ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়; ৩টি রিঅ্যাক্টরে মেল্টডাউন ও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে।