ইতিহাসনিশ্চিত [B]

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ড ২০২১: বালুখালীতে ১৫ মৃত্যু ও ৪৫ হাজার বাস্তুচ্যুত

1 মিনিট পাঠ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ড ২০২১: বালুখালীতে ১৫ মৃত্যু ও ৪৫ হাজার বাস্তুচ্যুত — ছবি: Anadolu Agency — UN verifies 15 deaths, 400 missing in Rohingya camps fire (2021)
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অগ্নিকাণ্ড ২০২১: বালুখালীতে ১৫ মৃত্যু ও ৪৫ হাজার বাস্তুচ্যুত — ছবি: Anadolu Agency — UN verifies 15 deaths, 400 missing in Rohingya camps fire (2021)
এক নজরে
  • ২২ মার্চ ২০২১ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়
  • ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফ নিশ্চিত করে অন্তত ১৫ জন নিহত; ৪০০ জনের বেশি নিখোঁজ ঘোষণা হয়
  • ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত; প্রায় ১০ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র ও শেড ধ্বংস হয়
  • কাঁটাতার ও সরু পথের কারণে অনেকে পালাতে পারেনি; দমকল ৯ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে

২০২১ সালের ২২ মার্চ বিকালে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন ধরে। ঘনবসতিপূর্ণ বাঁশ ও টারপলিনের কাঠামোর শেডগুলো কয়েক মিনিটেই জ্বলে ওঠে; বাতাসে আগুন গোটা ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। ৪০ হাজারের বেশি শেড পুড়ে যায় বলে জরুরি ব্যবস্থাপনা সচিব জানান।

প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি

ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফের হিসাবে এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারান এবং ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ ঘোষণা হয়। আহতের সংখ্যা ৫৫০-এর বেশি। প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ নিজের বাসস্থান হারিয়ে ফেলেন; ১০ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র বা শেড ধ্বংস হয়। খাদ্যসামগ্রী, টারপলিন ও অন্য সাহায্যও আগুনে পুড়ে যায়।

উদ্ধার তৎপরতা

ক্যাম্পের কাঁটাতার, সরু পথ ও জনাকীর্ণ পরিবেশের কারণে অনেক মানুষ প্রবেশ করতে বা বের হতে পারেননি; শিশুসহ কয়েকজন আটকা পড়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ৯ ঘণ্টা পর রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জাতিসংঘ সংস্থাগুলো জরুরি আশ্রয় ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ে কাজ শুরু করে।

প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তহবিল ও মনোযোগে বিরতি পড়েছিল, এমন সময় এই অগ্নিকাণ্ড আবারও সুরক্ষা সংকটকে সামনে আনে। আগুনের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তদন্ত চলে। বিশ্লেষকরা বলেন, ঘনবসতি ও পরিকল্পনাহীন ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকি এত বেশি যে আগুন, ভূমিধস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কোনও সময় হাজার হাজার মানুষকে বিপদে ফেলতে পারে।

সূত্র: বিবিসি নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, রিলিফওয়েব।

প্রশ্নোত্তর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগার কারণ কী ছিল?

নিশ্চিত কারণ এখনও জানা যায়নি; অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও ঘনবসতিপূর্ণ বাঁশের শেডের দাহ্যতার কথা বলেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত ছিল?

প্রায় ১০ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হয় এবং ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত বলে ইউএনএইচসিআর জানায়; বাঁশ-টারপলিনের শেডগুলো দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে।