তাজরিন ফ্যাশন আগুন ২০১২: আশুলিয়ায় ১১৭ শ্রমিকের মৃত্যু

- ২৪ নভেম্বর ২০১২ রাতে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় আগুন লাগে
- নিহতের চূড়ান্ত সরকারি হিসাব আনুমানিক ১১৭ জন
- তলায় তালাবদ্ধ গেট ও জানালার গ্রিলে পালানো কঠিন হয় — মৃত্যু বাড়ে
- পোশাক কারখানার শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ
২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতের দিকে ঢাকা শহরের অদূরে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই রাতে শিফটে কাজ চলছিল — নিচের তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে বহুতল ভবনের ওপরের তলায় আটকে পড়েন শত শত শ্রমিক।
মৃত্যু ও উদ্ধার
চূড়ান্ত হিসাবে অন্তত ১১৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়; অনেকেই আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রাণ হারান। উদ্ধারকারীরা জানান, ভবনের কিছু গেট তালাবদ্ধ ছিল এবং জানালায় বসানো গ্রিল পালানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছিল — ফলে শ্রমিকরা নামতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
প্রভাব ও বিচার
তাজরিন ট্র্যাজেডি বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের কারখানাগুলোর অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা আবার সামনে আনে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিক নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি (অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স) গঠিত হয় — তাজরিনের শিক্ষা এরই অংশ। বিচারে অগ্নিকাণ্ডে কারখানা মালিক ডেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন আসামি কারাদণ্ড পান। ঘটনাটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা-সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, বিবিসি নিউজ। রাতের শিফটে অনেক কর্মী বাইরে যেতে পারছিলেন না — তালাবদ্ধ দরজা ও নালা-ঘেরা জানালা তাদের আটকে রাখে। ফায়ার সার্ভিস, সেনা ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালান; হতাহতদের মধ্যে নারীরাই ছিল অনেক বেশি।
প্রশ্নোত্তর
তাজরিন ফ্যাশন কোথায় অবস্থিত?
ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অবস্থিত ছিল বহুতল গার্মেন্টস কারখানাটি।
কারখানাটির মালিকের কী হয়েছিল?
বিচারে মালিক ডেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত।