বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন (১৯৭২): ১০ জানুয়ারি মুক্ত দেশে বীরের প্রত্যাবর্তন

- ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেন; লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে তিনি দেশে ফেরেন
- ১০ জানুয়ারি দুপুরে তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু পৌঁছান; হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানায়
- বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত মানুষের ঢল; দুই ঘণ্টার শোভাযাত্রায় উচ্ছ্বাস চূড়ায় পৌঁছে
- রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি প্রতিশোধ-প্রবণতা নিষেধ করে জাতিকে নবজাগরণে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নয় মাস কারাগারে থাকার পর স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের নতুন নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো তাকে মুক্তি দেন; লন্ডনে এসে সে রাতেই সরাসরি নয়াদিল্লি হয়ে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বাংলাদেশের আকাশে পা রাখার মুহূর্তটিই ছিল জাতির কাছে নতুন সূর্যোদয়।
লাখো মানুষের ঢল
১০ জানুয়ারি দুপুরে বঙ্গবন্ধুর বহনকারী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের কমেট বিমান তেজগাঁও বিমানবন্দরে নামে। সকাল থেকেই বিমানবন্দর, সড়ক ও রেসকোর্স ময়দান জনস্রোতে ভরে যায়; লক্ষ লক্ষ মানুষ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানায়। বিমান থেকে নেমেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।
বিজয়ের শোভাযাত্রা
বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ট্রাক-শোভাযাত্রা রেসকোর্স ময়দানের দিকে রওনা হয়। সড়কের দুই পাশে ঘর-ছাড়া মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র, নারী ও শিশুরা কাতারে কাতারে দাঁড়িয়ে তাঁকে গ্রহণ করে। দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে পৌঁছান, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে অনুমান করা হয়।
ঐতিহাসিক ভাষণ
রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন; তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে পুনর্গঠন ও ধৈর্যের আহ্বান জানান। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উচ্চারণের পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।
পাঠ
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়কে জাতীয় ঐক্য ও পুনর্গঠনের দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর সংযমী ও দূরদর্শী নেতৃত্বই ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশটিতে ভিত্তি স্থাপন করে দেয় — যার উত্তরাধিকার এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীরভাবে উপস্থিত।
সূত্র: টাইম, দ্য ডেইলি স্টার, আওয়ামী লীগ, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
বঙ্গবন্ধু কীভাবে মুক্তি পান?
১৯ সপ্তাহেরও বেশি সময় পাকিস্তানের কারাগারে থাকার পর ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো তাকে মুক্তি দেন; রাতে লন্ডনে আসেন এবং পরদিন নয়াদিল্লি হয়ে দেশে ফেরেন।
প্রত্যাবর্তন দিবসটি কীভাবে উদযাপিত হয়?
১০ জানুয়ারি হল 'জাতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস'; বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন হয়।