স্প্যানিশ ফ্লু মহামারি (১৯১৮-১৯): বিশ্বব্যাপী ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মৃত্যু

- ১৯১৮ সালের বসন্তে প্রথম তরঙ্গ শুরু হয়; শরৎ-শীতকালে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী তরঙ্গ সর্বাধিক মৃত্যু ঘটায়
- বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ (জনগণের এক-তৃতীয়াংশ) আক্রান্ত হয়; ৫ কোটি বা তার বেশি মৃত্যুর অনুমান
- ২০-৪০ বছরের সুস্থ তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মৃত্যুহার অস্বাভাবিক রকম বেশি ছিল
- টিকা ও অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় বিচ্ছিন্নতা, কোয়ারেন্টাইন ও স্বাস্থ্যবিধির মতো ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়
১৯১৮ সালের বসন্তে বিশ্বজুড়ে একটি বিশেষ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে; মহাযুদ্ধ চলাকালে পরিখা ও সৈন্য শিবিরে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়। পরে ভাইরাসটি সামরিক জাহাজ ও ট্রেনে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে; স্থানীয় নামে পরিচিত হওয়ার পর ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে তা সর্বজনীন হয়ে যায়।
তিন তরঙ্গের মহামারি
১৯১৮-১৯ সালে মহামারির তিনটি তরঙ্গ দেখা যায়। বসন্তের প্রথম তরঙ্গ তুলনামূলকভাবে হালকা ছিল; তবে শরৎ ও শীতের দ্বিতীয় তরঙ্গে ব্যাপক মৃত্যু ঘটে, কারণ ভাইরাসটি রূপান্তরিত হয়ে আরও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হন, যা তখনকার জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
মৃত্যুর অনুমান
জনস্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৫ কোটি বা তারও বেশি মানুষ প্রাণ হারান; ঐতিহাসিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা কিছু সূত্রে ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়নের মধ্যে পরিসীমা ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬.৭৫ লাখ। সময়ের তুলনায় মৃত্যুহার এত বেশি ছিল যে অনেক শহরে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না।
অস্বাভাবিক প্রভাব
১৯১৮ সালের মহামারির বিশেষত্ব হলো ২০-৪০ বছর বয়সী সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুহার অস্বাভাবিক বেশি। নিউমোনিয়াসহ সেকেন্ডারি ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণের ফলে এমনটি ঘটেছে বলে মনে করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও মহামারি তৃতীয় তরঙ্গ নিয়ে ১৯২০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
পাঠ ও উত্তরাধিকার
টিকা ও কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত মহামারি নিয়ন্ত্রণে বিচ্ছিন্নতা, কোয়ারেন্টাইন, মাস্ক ও জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকরী প্রমাণিত হয়। আধুনিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ইনফ্লুয়েঞ্জা গবেষণা ও মহামারি প্রস্তুতির ভিত্তি এই মহামারির অভিজ্ঞতা থেকেই গড়ে ওঠে।
সূত্র: সিডিসি, ব্রিটানিকা, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
স্প্যানিশ ফ্লু কেন এত প্রাণঘাতী ছিল?
নতুন এইচ১এন১ ভাইরাসে জনগণের কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না; যুগ্ম আকস্মিক সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়াও মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দেয় বলে কেউ কেউ মনে করেন।
কাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল?
মহামারির গতিবিধি অস্বাভাবিক; সাধারণত শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, কিন্তু ১৯১৮ সালে ২০-৪০ বছরের স্বাস্থ্যবান মানুষই বেশি মারা যায়।