পারমাণবিক বোমা (১৯৪৫): হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ধ্বংস, যুদ্ধের সমাপ্তি

- ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় 'লিটল বয়' ইউরেনিয়াম বোমা নিক্ষেপ করা হয়
- ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে 'ফ্যাট ম্যান' প্লুটোনিয়াম বোমা ফেলা হয়; দুই শহরে কয়েক হাজার মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে মারা যান
- বোমার বিকিরণ ও ধংসের ফলে বছরের পর বছর হাজারো মানুষ অসুস্থ হয়ে মারা যায়
- ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ ঘোষণা করে; ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত হয়
১৯৪৫ সালের গ্রীষ্মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ম্যানহাটন প্রজেক্টের পরিণত পারমাণবিক অস্ত্রে বিনিয়োগ করে। ৬ আগস্ট সকালে বি-২৯ বোমারু এনোলা গে বিমান হিরোশিমার উপর ৫ কেজিরও কম ফলনযুক্ত ইউরেনিয়াম বোমা ‘লিটল বয়’ ফেলে; কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শহরের বিস্তীর্ণ অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
হিরোশিমা
বোমার বিস্ফোরণের ফলে হিরোশিমার লক্ষাধিক মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়; শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের পরও হাজারো মানুষ আগুন ও বিকিরণের শিকার হন; মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে।
নাগাসাকি
তিন দিন পরে ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র নাগাসাকি শহরে প্লুটোনিয়াম বোমা ‘ফ্যাট ম্যান’ নিক্ষেপ করে। বোমাটি কিছুটা মিস হিট হলেও শহরের একটি বৃহৎ অংশ বিধ্বস্ত হয়; তাপ, বিকিরণ ও অগ্নিতে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। দুই বোমাতেই প্রায় 2 লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে অনেকেই পরবর্তী সপ্তাহ-মাসে রোগ ও বিকিরণজনিত জটিলতায় প্রাণ হারান।
যুদ্ধের সমাপ্তি
বোমাবর্ষণের ধ্বংস ও নতুন অস্ত্রের কথা জাপানের নেতৃত্ব ও জনগণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেয়; ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
পাঠ ও বিতর্ক
পারমাণবিক বোমার ব্যবহার ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত সামরিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। হিরোশিমা-নাগাসাকি পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা ও শক্তির অস্তিত্বের হুমকির প্রতীক হয়ে আছে; পরবর্তী দশকগুলোতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তাররোধ চুক্তির ভিত্তি এ অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়।
সূত্র: অ্যাটমিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, জাতীয় আর্কাইভ, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের কারণ কী ছিল?
যুক্তরাষ্ট্র জাপানের উপর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে ও ভয়াবহ প্রচলিত যুদ্ধ (যেমন দ্বীপ-যুদ্ধ) এড়াতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়; এতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে প্রভাব বিভাজনও জড়িত ছিল।
দুই বোমায় কত মানুষ মারা যান?
মোটামুটি হিসাবে হিরোশিমায় ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ মানুষ এবং নাগাসাকিতে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ সরাসরি ও পরবর্তী সময়ে বিকিরণে মারা যান; মোট প্রায় ২ লক্ষের বেশি।