ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ওয়াশিংটনে যাত্রা (১৯৬৩): মার্টিন লুথার কিংয়ের 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম' ভাষণ

1 মিনিট পাঠ
ওয়াশিংটনে যাত্রা (১৯৬৩): মার্টিন লুথার কিংয়ের 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম' ভাষণ — ছবি: National Archives — I Have a Dream speech (MLK)
ওয়াশিংটনে যাত্রা (১৯৬৩): মার্টিন লুথার কিংয়ের 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম' ভাষণ — ছবি: National Archives — I Have a Dream speech (MLK)
এক নজরে
  • ২৮ আগস্ট ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রায় ২৫০ হাজার মানুষ একত্রিত হন
  • সমাবেশের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল মারে অন ওয়াশিংটন ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম
  • মদ্ধাহ্নে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়ি থেকে 'আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম' ভাষণ দেন
  • এই সমাবেশ উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ মানবাধিকার সমাবেশ; এর চাপে ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫-এর ভোটাধিকার আইন পাস হয়

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার সমাবেশের একটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘মার্চ অন ওয়াশিংটন ফর জবস অ্যান্ড ফ্রিডম’ শিরোনামে ডাকা এই সমাবেশে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে প্রায় ২৫০ হাজার মানুষ একত্রিত হন — যা সাদা-কালো সব জাতি-ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি এক বিপুল ঐক্য প্রদর্শন।

সমাবেশের প্রেক্ষাপট

মার্চটি আয়োজন করেন নাগরিক অধিকার নেতা ফিলিপ র্যান্ডলফ ও বায়ার্ড রাস্টিনসহ বৃহত্তর নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর জোট। আয়োজকদের দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বর্ণবৈষম্য দূর করা, ন্যায়সঙ্গত কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা। সমাবেশে গায়ক মহাত্মা গান্ধী-অনুপ্রাণিত শৈলীতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে প্রতিদিনের খবরা-খবর সমাবেশ পর্যন্ত অভিনয় ছিল।

‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’

দুপুরবেলায় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়ি থেকে তাঁর বিখ্যাত ভাষণ দেন। ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ ভাগ্য, মানবিক মর্যাদা ও সমতাসম্পন্ন আমেরিকার স্বপ্ন — জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে — নিয়ে; এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সবচেয়ে স্বীকৃত ভাষণে পরিণত হয়।

প্রভাব

সমাবেশটি আন্তর্জাতিকভাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতি লক্ষ্য ও সমর্থন তৈরি করে। এর পরের বছর ১৯৬৪ সালে নাগরিক অধিকার আইন এবং ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন পাস হয় — যা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের মৌলিক অর্জন।

পাঠ

ওয়াশিংটনে যাত্রা প্রমাণ করে যে শান্তিপূর্ণ, সংগঠিত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ভাষণের বার্তা — স্বপ্ন ও আশা — আজও মানুষকে সমতা ও ন্যায়বিচারের জন্য অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

সূত্র: জাতীয় আর্কাইভ, স্মিথসোনিয়ান, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

কত মানুষ ওয়াশিংটনে যাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন?

আনুমানিক ২৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন; এর মধ্যে অনেক সাদা-কালো নাগরিকসহ বিশ্বাসী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

মার্চের ফলাফল কী হয়েছিল?

এটি ১৯৬৪ সালের নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের জন্ম দিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে; তদুপরি যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।