ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রকল্প: ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপ শুরু করার ঘোষণা ও স্থগিত হওয়া কর্মসূচি

1 মিনিট পাঠ
ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রকল্প: ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপ শুরু করার ঘোষণা ও স্থগিত হওয়া কর্মসূচি — যাচাইডেস্ক
ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রকল্প: ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপ শুরু করার ঘোষণা ও স্থগিত হওয়া কর্মসূচি — যাচাইডেস্ক
এক নজরে
  • ২০১৮ সালের অক্টোবরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরানোর প্রথম ধাপ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়
  • বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা প্রায় ৬০ কিলোমিটার উপকূল থেকে দূরে অবস্থিত ওই দ্বীপে নৌবাহিনী আবাসন ও অবকাঠামো গড়ে তোলে
  • প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় দুইশ আশি মিলিয়ন মার্কিন ডলার; ১ হাজার ৪৪০ ভবন ও ১২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল
  • রোহিঙ্গা নেতাদের আপত্তি ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নে ২০১৮ সালের অক্টোবরের উদ্বোধন ও স্থানান্তর স্থগিত হয়
  • সবশেষে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়

কক্সবাজারের অতিভিড় আশ্রয়শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগরের ভাসানচর দ্বীপে সরিয়ে নেওয়ার যে পরিকল্পনা ২০১৫ সাল থেকেই নেওয়া হয়েছিল, তা ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রথম ধাপে শুরু করার কথা ছিল। স্থলভাগ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে জেগে ওঠা ওই চরে বাসস্থান ও অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাতে।

দেড় হাজারের বেশি ভবন ও ঝড় আশ্রয়কেন্দ্র

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বীপে ১ হাজার ৪৪০টি ভবন ও ১২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কথা ছিল; ২০১৮ সালে প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নৌবাহিনী দ্রুত গতিতে কাজ চালালেও সেপ্টেম্বরে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কাজ শেষ অবস্থায় ছিল বলে তখনকার সরকারি বক্তব্যে জানানো হয়।

স্থগিত হওয়া উদ্বোধনী কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে দ্বীপে আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন ও প্রথম দফায় রোহিঙ্গা স্থানান্তরের ঘোষণা এলেও সে কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। রোহিঙ্গা নেতারা দ্বীপ না দেখেই ঠিকানা বদলের বিষয়ে আপত্তি জানান; বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ দ্বীপটি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সতর্কতাও ভূমিকা রাখে।

২০২০ সালে শুরু হওয়া স্থানান্তর

বিতর্ক সত্ত্বেও ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে সরকার পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে সরানো শুরু করে; ২০২১ সালে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো দ্বীপ পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মতে, ২০২২ সালের মে নাগাদ প্রায় ২৮ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে স্থানান্তরিত হয়।

পাঠ

কক্সবাজারে প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাসের চাপ থেকে মুক্তির বিকল্প হিসেবে ভাসানচর প্রকল্প কয়েক বছর ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল; অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও এটি বাংলাদেশের শরণার্থী ব্যবস্থাপনার স্থায়ী অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, রেডিও ফ্রি এশিয়া, আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান।

প্রশ্নোত্তর

ভাসানচরের প্রকল্পের পরিকল্পনা কবে থেকে ছিল?

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার বস্তি থেকে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য দ্বীপে ১ হাজার ৪৪০টি ভবন ও ১২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করে; পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে নৌবাহিনী নির্মাণ ত্বরান্বিত করে।

প্রথম ধাপ স্থগিত হওয়ার কারণ কী ছিল?

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অক্টোবরে পুনর্বাসন শুরুর ঘোষণা এলেও অবকাঠামো সম্পূর্ণ না হওয়া, রোহিঙ্গা নেতাদের বিরোধিতা ও আইনগত-মানবিক প্রশ্নে কর্মসূচি পিছিয়ে যায়; প্রথম আনুষ্ঠানিক স্থানান্তর ঘটে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।