১/১১: ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

- ১১ জানুয়ারি ২০০৭ রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন
- ২২ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়
- পরদিন ১২ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন ফখরুদ্দীন আহমেদ
- জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ নির্বাচনে মহাজোট ২৬৩ আসন পায়
২০০৬-০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১১ জানুয়ারি ২০০৭। ওই দিন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ২২ জানুয়ারির নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করেন।
কেন এ অবস্থা
২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষে ক্ষমতা নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে দলগুলোর বিরোধ তীব্র হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩ জানুয়ারি ঘোষণা দেয়, তারা নির্বাচন বর্জন করবে। এরপর রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়; ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকে।
সরকারবদল ও নির্বাচন
পরদিন, ১২ জানুয়ারি ২০০৭, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমেদ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। দুই বছরের বেশি সময় জরুরি অবস্থার অধীনে দলীয় কার্যক্রম ও সমাবেশ সীমিত থাকে; সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানও চালায়। ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৩টি আসনে জয় পায়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রশ্নোত্তর
'১/১১' বলতে কী বোঝায়?
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঘিরে '১/১১' নামটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
জরুরি অবস্থা কবে তুলে নেওয়া হয়?
২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর, নির্বাচনের ঠিক আগে — ভোট হয় ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮।