লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন ২০০৮: বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সূচনা

- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে লেহম্যান ব্রাদার্স ১৫৮ বছরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যাংক দেউলিয়া হয়
- এক দিন আগে ব্যাংক অব আমেরিকা সঙ্কটে পড়া মেরিল লিঞ্চ কিনে নেয়; ফেডারেল রিজার্ভ আর্থিক জরুরি ত্রাণ চালু করে
- দেউলিয়ার ঘোষণার দিন ডাও জোন্স সূচক ৫০৪ পয়েন্ট পড়ে — ২০০১ সালের পর এক দিনের সবচেয়ে বড় পতন
- সাবপ্রাইম মর্টগেজ সংকট ও অস্থিতিশীল বিনিয়োগ হোঁচট খাওয়ায় আমেরিকার আর্থিক খাত ধসের মুখে পড়ে
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক জগৎ দীর্ঘদিন ধরে সাবপ্রাইম বন্ধক সংকটে আটকে ছিল। বাড়ির ঋণযোগ্যতা হ্রাস আর মন্দ ঋণের বোঝায় স্থপতি ও ব্যাংকগুলো একে একে হোঁচট খেতে শুরু করে; সেপ্টেম্বরের সপ্তাহখানেকের মধ্যে সঙ্কট তুঙ্গে ওঠে।
পতনের দিন
১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ঐতিহাসিক বিনিয়োগ ব্যাংক লেহম্যান ব্রাদার্স চ্যাপ্টার ১১-বনাম দেউলিয়া ঘোষণা করে। এক দিন আগে ব্যাংক অব আমেরিকা দেউলিয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা মেরিল লিঞ্চ কিনে নেয়। মার্কিন ট্রেজারি ও ফেডারেল রিজার্ভ লেহম্যানের জন্য সরকারি নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকৃত হয়, যা দেউলিয়ার আগে সম্ভাব্য ক্রেতারা চেয়েছিল।
বাজারের ধস
ঘোষণার দিন ডাও জোন্স শিল্প সূচক ৫০৪ পয়েন্ট অর্থাৎ প্রায় ৪.৪ শতাংশ পড়ে যায় — সেপ্টেম্বর ২০০১-এর পর একদিনের সবচেয়ে বড় পতন। নাজুক আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ (এআইজি) ও সিটিগ্রুপেরও শেয়ার ধসে পড়ে; ফেডারেল রিজার্ভ এআইজি-কে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ দিয়ে বাঁচায়।
বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
লেহম্যানের পতন ইউরোপ, এশিয়া ও বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট ছড়িয়ে দেয়; ইন্টারব্যাংক ঋণপ্রবাহ স্থবির হয়ে যায়। মার্কিন কংগ্রেস অবশেষে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের টিএআরপি জরুরি ত্রাণ অনুমোদন করে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমানোয় বাধ্য হয়।
শিক্ষা
লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকের মেগা-ব্যাংকগুলোর দুর্বল নিয়ন্ত্রণের ওপর আলোকপাত করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ কঠোর হয় এবং ‘টু বিগ টু ফেইল’ বিতর্ক দীর্ঘায়িত হয়।
সূত্র: সিএনএন মানি, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
লেহম্যান ব্রাদার্স কেন দেউলিয়া হলো?
সাবপ্রাইম বন্ধকী ঋণের সঙ্গে জড়িত ব্যাপক মন্দ ঋণ এবং ভুল বিনিয়োগের কারণে ব্যালেন্স শিটের ঘাটতি বাড়তে থাকে; রক্ষা পেতে ক্রেতাও পাননি।
লেহম্যানের পতনের পরে কী ঘটে?
মার্কিন সরকার ৭০০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি ত্রাণ প্যাকেজ (টিএআরপি) অনুমোদন করে; বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলোর ধস ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একসঙ্গে কাজ করে।