২৬/১১ মুম্বাই হামলা ২০০৮: ৬০ ঘণ্টার অবরোধে ১৬৬ প্রাণহানি

- ২৬-২৯ নভেম্বর ২০০৮; সমুদ্রপথে কায়াক-নৌকায় এসে ১০ হামলাকারীর ১২টি যুক্ত হামলা
- লক্ষ্যবস্তু: ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, তাজ মাহল প্যালেস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, নারিম্যান হাউস, কামা হাসপাতাল, লিওপোল্ড ক্যাফে
- নিহত ১৬৬ (৯ হামলাকারীসহ); ২৬ বিদেশি নাগরিক; আহত ৩০০-র বেশি
- একমাত্র জীবিত হামলাকারী আজমাল কাসাব ২০১২ সালে ফাঁসি কার্যকর; উদ্ধার চালায় এনএসজি 'অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো'
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে পাকিস্তান থেকে সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ করা লস্কর-ই-তৈবার ১০ হামলাকারী মুম্বাইয়ের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আক্রমণ চালায়। হামলা চলে ২৯ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত — প্রায় ৬০ ঘণ্টা।
লক্ষ্যবস্তু
হামলাকারীরা ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস রেলস্টেশন, লিওপোল্ড ক্যাফে, তাজ মাহল প্যালেস হোটেল, ওবেরয়-ট্রাইডেন্ট হোটেল, নারিম্যান হাউসের ইহুদি কেন্দ্র এবং কামা হাসপাতালে গুলি চালায় ও বোমা ফাটায়। টার্মিনাসে একাই অনেক মানুষকে হত্যা করে কাসাব; তাজ হোটেলে অনুষ্ঠিত হয় দীর্ঘতম অবরোধ।
প্রাণহানি
মোট ১৬৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৯ জন হামলাকারী; ২৬ জন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। আহত ৩০০-র বেশি। হামলাকারীরা একে-৪৭ রাইফেল, আরডিএক্স বিস্ফোরক ও গ্রেনেড নিয়ে এসেছিল; তাদের সমন্বিত পরিকল্পনা দেখে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বিস্মিত হন।
উদ্ধার ও পরিণতি
ভারতের এনএসজি কমান্ডোরা ‘অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো’ চালিয়ে শেষ জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করে। একমাত্র জীবিত কাসাব ২০১২ সালে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এই হামলা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ও বিশ্ব টেরর কাউন্টারমেজারে গভীর প্রভাব ফেলে এবং সীমান্ত জুড়ে ছোট ছোট জঙ্গি গ্রুপের হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান।
প্রশ্নোত্তর
হামলাকারীরা কারা ছিল?
পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ১০ সদস্য; নয়জন নিহত ও একজন (আজমাল কাসাব) ধরা পড়েন।
হামলা কতক্ষণ চলেছিল?
প্রায় ৬০ ঘণ্টা — ২৬ নভেম্বর রাত থেকে ২৯ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত; সবশেষ তাজ হোটেলে শেষ জঙ্গিদের নিষ্ক্রিয় করা হয়।