২১ আগস্ট ২০০৪: বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা — ২৪ জন নিহত

- ২১ আগস্ট ২০০৪, বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হামলাটি হয়
- ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়; ২৪ জন নিহত, ৫০০-র বেশি আহত
- নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রাহমান (৩ দিন পর মৃত্যু)
- লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা; দলীয় নেতাদের সুরক্ষায় তিনি রক্ষা পান
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও ৫০০-র বেশি মানুষ আহত হন। সিলেটে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিবাদে এদিনের সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছিল। হামলাটি ঘটে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই।
হামলার ঘটনা
এদিন বিকেলে যখন শেখ হাসিনা ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চ থেকে নামছিলেন, তখন আশপাশের ভবন থেকে একে একে ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলে অন্তত ১৬ জন নিহত হন; পরদিন ও পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪-এ পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রাহমান — তিনি তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হাসিনার নিরাপত্তাকর্মী মাহবুবুর রশীদও প্রাণ দেন তাকে রক্ষা করতে গিয়ে।
তদন্ত ও বিচার
হামলায় মৌলবাদী সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামীকে (হুজি) দায়ী করা হয়। বহু বছরের মামলার পর ২০১৮ সালে ঢাকার একটি আদালত ১৯ জনকে দণ্ড দেয়; পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতে আপিল চলেছে। আওয়ামী লীগ বারবার বলেছে, হামলার নেপথ্যে তৎকালীন সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা ছিল — যা বিচারে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর ক্ষত রেখে গেছে; প্রতি বছর ২১ আগস্ট দিবসটি পালন করা হয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
প্রশ্নোত্তর
হামলাটি কোথায় হয়েছিল?
ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে (এখন শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) আওয়ামী লীগের পথসভায়।
কে দায়ী ছিল?
তদন্তে মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামীকে (হুজি) দায়ী করা হয়; পরে আদালতে একাধিক আসামি দণ্ড পান।