ইতিহাসনিশ্চিত [B]

সিচুয়ান ভূমিকম্প ২০০৮: ৮৭ হাজারের বেশি নিহত ও নিখোঁজ

1 মিনিট পাঠ
সিচুয়ান ভূমিকম্প ২০০৮: ৮৭ হাজারের বেশি নিহত ও নিখোঁজ — ছবি: BBC News — Sichuan 2008: Rebuilding lives after the earthquake (2013)
সিচুয়ান ভূমিকম্প ২০০৮: ৮৭ হাজারের বেশি নিহত ও নিখোঁজ — ছবি: BBC News — Sichuan 2008: Rebuilding lives after the earthquake (2013)
এক নজরে
  • ১২ মে ২০০৮ বিকালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে; কেন্দ্রস্থল ছিল ওয়েনচুয়ান
  • অন্তত ৬৯,১৯৬ জন নিহত ও ৩৭৪,৬৪৩ জন আহত হন; ১৮,৩৭৯ জন মানুষ নিখোঁজ হন
  • প্রায় ৪৮ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়; ৫৬ লাখের বেশি ভবন ধসে পড়ে
  • স্কুল ভবন ধসে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মারা যান, যা তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়

২০০৮ সালের ১২ মে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ৮.০ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএসের হিসাবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল প্রদেশের রাজধানী চেংদু থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ८০ কিলোমিটার দূরে, ওয়েনচুয়ান কাউন্টিতে; গভীরতা ছিল মাত্র ১৯ কিলোমিটার। গোটা প্রদেশ ও আশপাশের অঞ্চল কয়েক মিনিটের জন্য কেঁপে ওঠে।

প্রাণহানি ও ক্ষতি

সরকারি হিসাবে অন্তত ৬৯,১৯৬ জন নিহত ও ৩৭৪,৬৪৩ জন আহত হন; আরও ১৮,৩৭৯ জন নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। নিহতের সিংহভাগই ছিল সিচুয়ান প্রদেশের। প্রায় ৪৮ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন এবং ৫৬ লাখের বেশি ভবন ধসে যায়। ভূমিকম্পে সৃষ্ট ভূমিধস ২০০ হাজারের বেশি; পাহাড়ি স্রোতসরা আটকে পড়ায় তৈরি হয় শত শত কৃত্রিম হ্রদ, যা পরে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি করে।

স্কুলের ট্র্যাজেডি

সবচেয়ে বিতর্কিত দিক ছিল স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হতাহত। শহর ও গ্রামের বহু স্কুল ভবন এক মুহূর্তেই ধসে পড়ে, ফলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মারা যান। নিম্নমানের নির্মাণ আর জালিয়াতির অভিযোগে জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে; পরে অনেক নির্মাণ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

উদ্ধার ও পুনর্গঠন

বেইজিংয়ের মতো হাজার কিলোমিটার দূরের শহরেও কম্পন অনুভূত হয়। চীনা সরকার সেনা ও বিপুল ত্রাণ পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। তিন বছরের মেয়াদে পুনর্গঠনে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়। ১৯৭৬ সালের তাংশান ভূমিকম্পের পর এটিই চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প ছিল।

সূত্র: ইউএসজিএস, উইকিপিডিয়া, বিবিসি নিউজ।

প্রশ্নোত্তর

সিচুয়ান ভূমিকম্প কেন এত ধ্বংসাত্মক ছিল?

৮.০ মাত্রা ও অগভীর ভূমিকম্প ছিল; ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং নিম্নমানের ও অপরিকল্পিত বাড়িগুলোও ধ্বংসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

এতে কী কী প্রভাব পড়েছিল?

৬৯ হাজারের বেশি প্রাণহানি, ৪৮ লাখ গৃহহীন, ২০০ হাজারের বেশি ভূমিধস ও কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়; সারা দেশে তিন বছরব্যাপী পুনর্গঠন কর্মসূচি নেওয়া হয়।