ইতিহাসনিশ্চিত [B]

গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯: আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে গোটা জাতি পথে

1 মিনিট পাঠ
গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯: আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে গোটা জাতি পথে — ছবি: Orangeadnan (BY)
গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯: আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে গোটা জাতি পথে — ছবি: Orangeadnan (BY)
এক নজরে
  • ১৯৬৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে বসন্ত ১৯৬৯-এর আগে পূর্ব বাংলার ছাত্রনা-যুবা আইয়ুববিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে
  • ১১ দফা কর্মসূচি — শিক্ষা, স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহারসহ — ঘোষণা করা হয়
  • ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে ছাত্র আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজনের মৃত্যু গণজাগরণকে তীব্র করে
  • ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে; ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান; শেষে আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়েন

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি পাকিস্তানের পূর্ব অংশে ক্ষুব্ধ জনগণের মাঝে ধীরে ধীরে জমে উঠছিল অসন্তোষ। পশ্চিম পাকিস্তানের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ক্ষমতা ও সম্পদের বড় অংশ ধরে রেখেছিল; পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি বারবার অবহেলিত হয়। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা থেকে ১৯৬৮ সালের আগরতলা মামলা পর্যন্ত পথ ধরে অসন্তোষ জোরালো হয়ে ওঠে।

১১ দফা ও আন্দোলনের শুরু

১৯৬৮ সালের শেষ দিকে ছাত্রনেতারা ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন — শিক্ষাখাতের সংস্কার, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক ন্যায্য বণ্টন ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবিসহ। ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, মিছিল ও জেল-জুলুমের প্রত্যাখ্যান ছড়িয়ে পড়ে। ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে ছাত্র আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন নিহত হন; ঘটনাটি আন্দোলনকে জাতীয় গণজাগরণে পরিণত করে।

মামলা প্রত্যাহার এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তি

চাপের মুখে ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পান; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘টানা সংগ্রামের নায়ক’ উপাধিতে তাঁকে বিপুল জনতা অভ্যর্থনা জানায়। মুক্তির সাক্ষী হয়ে লাখ লাখ মানুষ মিছিলে নামে।

আইয়ুব শাসনের অবসান

গণচাপে ক্ষমতাহীন হয়ে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ক্ষমতা প্রধান সেনাপতি ইয়াহিয়া খানের হাতে তুলে দেন। নতুন প্রশাসন ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা ভাষা আন্দোলন ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে নির্বাচনী রূপে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রভাব

গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯ বাঙালির স্বাধীনতার পথে নতুন মাইলফলক। এটি দেখিয়ে দেয় গণসংগ্রাম-ই যখন শাসকের বিরুদ্ধে এককভাবে জয়লাভ করতে পারে, তখন বিস্তৃত জাতীয় মুক্তির পথও সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির মূল রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত তৈরি হয়েছিল এই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতাতেই।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

১১ দফা কর্মসূচি কী ছিল?

শিক্ষাখাতে সংস্কার, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, আর্থ-সামাজিক ন্যায্যতা, মৌলিক অধিকার, বেতন ও ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ পয়েন্টের দাবি; ছাত্রদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ভূমিকা কী ছিল?

১৯৬৮ সালের মামলা — পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন করতে বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আনা হয় — বাঙালির মনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করে; ১১ দফার একটি দাবি ছিল এই মামলা প্রত্যাহার, যা ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হয়।