ইতিহাসনিশ্চিত [B]

১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ: থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা, আমেরিকার বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

2 মিনিট পাঠ
১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ: থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা, আমেরিকার বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
এক নজরে
  • ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ ভোর ৪টায় দ্বিতীয় ইউনিটে শুরু হওয়া এই দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা
  • ফিডওয়াটার পাম্প বন্ধ হওয়ায় স্টিম জেনারেটরে পানি না পৌঁছানো এবং প্রেশারাইজিংয়ের শিল্ড চালু অবস্থায় আটকে থাকায় মূল সিস্টেম থেকে পানি বেরিয়ে যায়
  • অপারেশনের প্রশিক্ষণে এই বিপর্যয়ের কোনো বিকল্প পরিস্থিতি না থাকায় কর্মীরা এটিকে শীতলীয়কারী পানি ফুরিয়ে যাওয়া হিসেবে ভুল পড়েন
  • কেন্দ্র থেকে দশ মাইলের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের গড় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছিল ০.০৮ মিলিসিভার্ট; বাইরে কোনো কারখানা বা দেশে সর্বোচ্চ ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি
  • রিঅ্যাক্টর কোর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়; উপরের সারি ভেঙে পড়ে এবং খাদের মতো যুক্তির আকার ধারণ করে, পরিষ্কার কাজ ১৯৭৯ সালের আগস্ট থেকে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে

১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ ভোর চারটায় পেনসিলভানিয়ার থ্রি মাইল আইল্যান্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে জরুরি অবস্থার সূচনা হয়। মূল কারণ ছিল ফিডওয়াটার পাম্প বন্ধ হয়ে স্টিম জেনারেটরে পানি না পৌঁছানো। একই সঙ্গে চাপ নিয়ন্ত্রণের শিল্ড যন্ত্রটি আটকে থাকে, ফলে শীতলীয়কারী ব্যবস্থা থেকে পানি বেরিয়ে যেতে থাকে।

বিপদ চিহ্নিত হওয়ায় জরুরি শীতলীয়করণ পাম্প চালু হয়, কিন্তু তার সামনের দুটি বন্ধ ভালভের কারণে পানি পৌঁছায় না। কর্মীরা চাপ কমতে দেখে ভাবেন পানি বেশি হয়ে গেছে বলে জরুরি পাম্প বন্ধ করে দেন। প্রায় সত্তের মধ্যেই চারটি প্রধান পাম্প বাষ্পের কারণে চলতে পারে না আর রিঅ্যাক্টরের ওপরের অংশ পুড়তে শুরু করে।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোরের বড় অংশ গলে যায়। স্টিমের সংস্পর্শে জিরকোনিয়াম আবরণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি হয়, যার কারণে বিকেলে কন্টেনমেন্ট ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। কেন্দ্র থেকে দশ মাইলের বসবাসকারী মানুষের গড় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছিল ০.০৮ মিলিসিভার্ট, যা একটি বুকের এক্স-রে পরীক্ষার কাছাকাছি। কারখানার কোনো কর্মী বা স্থানীয় বাসিন্দা মারা বা আহত হননি।

ঘটনার পর রাষ্ট্রপতির নিয়োগে গঠিত তদন্ত কমিশন অক্টোবরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয় যে সরকারি পর্যায়ে কোনো গুজব সত্য প্রমাণিত হয়নি, তবে অপারেশন ও যন্ত্র ব্যবস্থায় যে ত্রুটি ছিল তা চিহ্নিত করা হয়। পরামর্শে পারমাণবিক শিল্পে তদন্ত ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কঠিন করা হয় এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে ৫২টি রিঅ্যাক্টর বাতিল হয়।

দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৭৯ সালের আগস্ট থেকে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দশ বছর ধরে পরিষ্কার কাজ চলে, যার খরচ প্রায় একশো কোটি মার্কিন ডলার।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, আমেরিকান পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কমিশন, হিস্ট্রি।

প্রশ্নোত্তর

থ্রি মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা কেন ঘটেছিল?

দুর্ঘটনার শুরু হয় ফিডওয়াটার পাম্প বন্ধ হয়ে স্টিম জেনারেটরে পানি না পৌঁছানোয়। সেই সঙ্গে প্রেশারাইজিং যন্ত্রের শিল্ড চালু অবস্থায় আটকে থাকে, ফলে চাপ বাড়ে। তবে নিয়ন্ত্রণকারীরা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা না করায় তাঁরা এটিকে পানি ফুরিয়ে যাওয়া মনে করে জরুরি শীতলীয়করণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন।

এই দুর্ঘটনায় কি কারখানার বা আশপাশের মানুষের ক্ষতি হয়েছিল?

নীরবে প্রাণ হানা বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রের পাঁচ মাইলের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের গড় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছিল ০.০৮ মিলিসিভার্ট, যা একটি বুকের এক্স-রে পরীক্ষার কাছাকাছি। তবে ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়।

এই দুর্ঘটনার পর কী বদলেছিল?

১৯৭৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের কমিশনের প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয় যে জটিল ব্যবস্থায় বিভিন্ন ব্যর্থতা একসঙ্গে ঘটলে সাধারণ সুরক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন। তারপর দেশের পারমাণবিক শিল্পে তদন্ত, প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয় এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে ৫২টি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বাতিল হয়।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
মন্তব্য দেখুন / লিখুন

মন্তব্য লিখতে চাইলে নিচের ঘরে লিখুন। প্রতিটি মন্তব্য যাচাই করার পরেই প্রকাশিত হয়।