ইতিহাসনিশ্চিত [B]

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ইতিহাস-সেরা মহামারি: ১ লাখের বেশি আক্রান্ত

1 মিনিট পাঠ
২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ইতিহাস-সেরা মহামারি: ১ লাখের বেশি আক্রান্ত — ছবি: "PLOS Neglected Tropical Diseases — Dengue in a crowded megacity: 2019
২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ইতিহাস-সেরা মহামারি: ১ লাখের বেশি আক্রান্ত — ছবি: "PLOS Neglected Tropical Diseases — Dengue in a crowded megacity: 2019
এক নজরে
  • ২০১৯ সালে ডিজিএইচএস হিসাবে ১,০০,২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি; ২০১৮-এর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি
  • কমপক্ষে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়; আক্রান্তদের অধিকাংশই তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক ও পুরুষ
  • আগস্টে সর্বোচ্চ শিখর; ঢাকায় প্রথম আধিপত্য, পরে ঈদের পর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে
  • ডিইএন-৩ সেরোটাইপ পুনরায় ফিরে আসা ও ভিন্ন লক্ষণ গুরুতর সংক্রমণের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়

২০১৯ সাল বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গুর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) হিসাবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১,০০,২০১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন; এর আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। রাজধানী ঢাকার দুটি শহরেই রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল।

শিখর ও বিস্তার

সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছায় আগস্টে — বছরের মোট রোগীর অর্ধেকের বেশি এ সময়ে ধরা পড়ে। জুলাইয়ে প্রায় ৮১ শতাংশ রোগীই ছিলেন ঢাকায়; কিন্তু ঈদের সময় মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাওয়ায় রোগটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, নড়াইল, পিরোজপুর, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অনেক জেলায় আক্রান্ত বেড়ে যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫-৩৫ বছর বয়সী তরুণরা বেশি ছিলেন।

মৃত্যু ও কারণ

সরকারি হিসাবে ২০১৯ সালে কমপক্ষে ১৬৪ জন প্রাণ হারান। গবেষকরা জানান, ২০১৩-২০১৬ সালের বিরতির পর ডিইএন-৩ সেরোটাইপ ফিরে আসায় নির্দিষ্ট কিছু রোগীর মধ্যে মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয় — প্লাজমা লিকেজ এবং লিভার-কিডনির জটিলতা। মশা নিয়ন্ত্রণ ও নগর পরিচ্ছন্নতার ঘাটতিও সংক্রমণ বাড়ায়।

পাঠ

২০১৯ সালের অভিজ্ঞতা সরকারকে ঋতুভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ, রোগীর বিছানা ক্ষমতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে বাধ্য করে। এটিই পরবর্তী বছরগুলোতে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার নীতির ভিত্তি হয়।

সূত্র: পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস, ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন (পিএমসি), ডিজিএইচএস (রিলিফওয়েব)।

প্রশ্নোত্তর

২০১৯ সাল কেন এত ভয়াবহ ছিল?

সরকারি হিসাবে রোগী বেড়ে ছিল ১০ গুণ; ঢাকার ঘনবসতিসহ মশা নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এবং ডিইএন-৩ সেরোটাইপের পুনরাবির্ভাব প্রধান কারণ।

মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা কত?

ডিজিএইচএস হিসাবে পুরো বছরে কমপক্ষে ১৬৪ জন; বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেন।