ইতিহাসনিশ্চিত [B]

১৭ আগস্ট ২০০৫: সারাদেশে জেএমবির সমান্তরাল বোমা হামলা

1 মিনিট পাঠ
১৭ আগস্ট ২০০৫: সারাদেশে জেএমবির সমান্তরাল বোমা হামলা — ছবি: Wonderlane (BY)
১৭ আগস্ট ২০০৫: সারাদেশে জেএমবির সমান্তরাল বোমা হামলা — ছবি: Wonderlane (BY)
এক নজরে
  • ৬৩টি জেলায় ৩০০-র বেশি স্থানে প্রায় ৫০০ বোমার বিস্ফোরণ (সকাল ১১টার দিকে শুরু)
  • হতাহত: নিহত ২ জন, আহত ১১৫-র বেশি (সূত্রভেদে সংখ্যা ভিন্ন)
  • দায় স্বীকার করে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)
  • পরবর্তী বিচারে জেএমবির শীর্ষ দুই নেতার ফাঁসি কার্যকর হয় (মার্চ ২০০৭)

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল ১১টার কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচশো ছোট বোমা প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে বিস্ফোরিত হয়। দেশটির ইতিহাসে এত বড় মাপের সমান্তরাল হামলা এর আগে ঘটেনি।

বিস্ফোরণের ধরন

তদন্তে পাওয়া তথ্যমতে, জেলাশাসক কার্যালয়, আদালত, থানা ও সরকারি স্থাপনাগুলো ছিল প্রধান লক্ষ্য। ঢাকায় সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট কমপ্লেক্স, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও বিমানবন্দরেও বিস্ফোরণ ঘটে। হামলায় দুজন নিহত হন — সাভারে এক শিশু ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক রিকশাচালক; আহত হন শতাধিক মানুষ।

দায় ও পরিণতি

ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া লিফলেটে দায় স্বীকার করে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম, যিনি ‘বাংলা ভাই’ নামে পরিচিত। সরকার পরে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে। দুজনে মার্চ ২০০৬-এ গ্রেপ্তার হন এবং বিচারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৭ সালের মার্চে ফাঁসি কার্যকর হয়। হামলাটি বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখেছে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, স্যাটপ, ঢাকা ট্রিবিউন। আহতদের অধিকাংশই সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থী; হামলার পর তদন্ত ও বিচারে একাধিক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

প্রশ্নোত্তর

সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরণ কোথায় হয়েছে?

ঢাকায় সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ২৮টি জায়গায় বিস্ফোরণের ঘটনা মেলে।

জেএমবির দুই শীর্ষ নেতার কী হয়েছিল?

শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম (বাংলা ভাই) গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৭ সালের মার্চে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।