৫ জানুয়ারি ২০১৪: বর্জিত নির্বাচন, ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়

- ৫ জানুয়ারি ২০১৪, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন; বিএনপিসহ ১৮-দলীয় জোট বর্জন করে
- ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা; আওয়ামী লীগ বিনা ভোটে ১২৭ আসন পায়
- ভোটার উপস্থিতি মাত্র ৩৯.৬ শতাংশ (কোনো কোনো অঞ্চলে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম)
- ভোটের দিন প্রায় ২১ জন প্রাণ হারান; ইইউ-ইউএসসহ বৃহৎ পর্যবেক্ষক মিশন আসেনি
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় — কিন্তু সেই দিন ভোটে অংশ নেয়নি দেশের প্রধান বিরোধী জোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন; দাবি না মানায় তারা ভোট বর্জন করে।
নির্বাচনের পরিবেশ
বর্জনের আগে ২০১৩ জুড়ে বিএনপির ডাকে ৮৫ দিনের বেশি অবরোধ ও হরতাল চলে, দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নির্বাচনের দিনও সহিংসতা ছিল; সরকারি তথ্য অনুযায়ী অন্তত ২১ জন নিহত হন। শীর্ষ বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে গৃহবন্দি ছিলেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বর্জনের কারণে ৩০০ আজনের ১৫৩টি আসনে কোনো প্রার্থীই ছিল না — এগুলোতে নির্বাচন হয়নি, বরং সেখানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগ বিনা ভোটেই ১২৭টি আসন পায়। বাকি ১৪৭ আসনে ভোট হলেও উপস্থিতি ছিল খুব কম; রাষ্ট্রীয়ভাবে মোট উপস্থিতি ৩৯.৬ শতাংশ, তবে ঢাকার মতো এলাকায় তা ২২ শতাংশেও নেমে আসে।
ফলাফল ও সমালোচনা
ভোট শেষে আওয়ামী লীগ ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি, স্বতন্ত্ররা ১৬টি আসন পায় — কার্যত কোনো প্রতিযোগিতাই ছিল না। ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, বলেছিল নির্বাচন প্রকৃত গণতান্ত্রিক হবে না বলে। শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন; কিন্তু নির্বাচনকে ‘বিতর্কিত’ বলা হয় — এবং এই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ পরবর্তী দশকের রাজনীতির পূর্বাভাস হয়ে থাকে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, বিবিসি নিউজ, সিএনএন।
প্রশ্নোত্তর
বিএনপি বর্জনের কারণ কী ছিল?
বিএনপি দাবি করে, শেখ হাসিনার সরকার দলীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে; তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে প্রতারণা হবে বলে এড়িয়ে যায়।
নির্বাচনটি ফলাফল কী ছিল?
আওয়ামী লীগ মোট ২৩৪টি, জাতীয় পার্টি ৩৪টি, স্বতন্ত্ররা ১৬টি আসন পায়; মিত্রদের নিয়ে সরকার গঠিত হয়।