ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব

1 মিনিট পাঠ
ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব — ছবি: Ahron de Leeuw (BY)
ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক প্রস্তাব — ছবি: Ahron de Leeuw (BY)
এক নজরে
  • ৫-৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে লাহোরে আওয়ামী লীগ সম্মেলনে ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়
  • দফাগুলোতে ছিল ফেডারেল সংবিধান, নিজস্ব মুদ্রা ও কর ব্যবস্থা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণসহ বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন
  • এর প্রতিক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন এবং পরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন
  • পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে ছয় দফাই পথপ্রদর্শক হয়

১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন বসে। এই সম্মেলনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন এক প্রস্তাব পেশ করেন যা ইতিহাসে ছয় দফা নামে পরিচিত। দাবিগুলো পেশ করা হয়েছিল পাকিস্তানের পশ্চিম অংশের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাপক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে।

ছয় দফার প্রকৃতি

ছয় দফায় ছিল ফেডারেল সংবিধানের দাবি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, মুদ্রা ও কর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বাণিজ্য চালানোর ক্ষমতা এবং নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের অধিকার। এটি ছিল মূলত একটি আধা-স্বাধীন অবস্থার দাবি, যা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বকে ব্যাপকভাবে সীমিত করত। বঙ্গবন্ধু একে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বলে অভিহিত করেন।

প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলন

ছয় দফাকে কেন্দ্রীয় সরকার ও কিছু সংখ্যক বাঙালি নেতা ‘ভারত-পন্থী বিভাজনবাদী’ প্রস্তাব বলে আক্রমণ করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৮ মে গ্রেফতার হন; পরে তাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায়ও অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ৭ জুন ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং মনু মিয়া, শফিকুর রহমান প্রমুখ শহীদ হন।

জাতীয় ঐক্য ও পরবর্তী পথ

৬৬-এর আন্দোলন থেকে জনসমর্থন পেতে পেতে আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি—অস্ত্র, তহবিল ও সংগঠন—ছয় দফার ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে। মোটামুটিভাবে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যদি বাঙালির সাংস্কৃতিক জাগরণের শুরু, তাহলে ১৯৬৬ সালের ছয় দফা তার রাজনৈতিক রূপদান।

পাঠ

ছয় দফা দেখিয়ে দেয়, একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দাবি জনমানুষের মনে কতটা সংগঠিত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। বৈষম্য থেকে মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ভিত্তিই নির্মাণ হয়েছিল এই ছয় দফায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, ঢাকা ট্রিবিউন।

প্রশ্নোত্তর

ছয় দফার মূল দফাগুলো কী ছিল?

১. ফেডারেল সংবিধান তথা পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র; ২. কেন্দ্রের হাতে কেবল পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা; ৩. প্রতিটি অংশের নিজস্ব মুদ্রা; ৪. কর ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অংশগুলোতে; ৫. নিজস্ব বৈদেশিক বাণিজ্য, যার চুক্তি সেখানে সরকার করতে পারবে; ৬. নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী ও নৌবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ছয় দফা কীভাবে গৃহীত হয়?

প্রস্তাবটি সবার সমর্থন পায়নি; কিছু নেতা এর প্রত্যাখ্যানও করেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে ঘিরে 'জাতীয় প্রশ্ন' বলে অভিহিত করেন এবং আন্দোলন টেনে নিয়ে যান।