চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনা ১৯৮৬: মহাকাশযান প্রক্ষেপণের ৭৩ সেকেন্ডে বিস্ফোরণে সাত নভোচারীর মৃত্যু

- ২৮ জানুয়ারি ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জার (এসটিএস-৫১-এল) মিশন উৎক্ষেপণের ৭৩ সেকেন্ডে বিস্ফোরণ ঘটে
- শিক্ষক-নভোচারী ক্রিস্টা ম্যাকিউলিফসহ সাত নভোচারী প্রাণ হারান
- তদন্ত কমিশন রাইট সলিড রকেট বুস্টারের সিলিং-এর ব্যর্থতাকে মূল কারণ চিহ্নিত করে
- ঠান্ডা আবহাওয়ায় সিলিং-এর স্থিতিস্থাপকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পরে মহাকাশযান প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় আমূল সংস্কার আসে
১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারি সকালে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। মিশন এসটিএস-৫১-এল-এর বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষক ক্রিস্টা ম্যাকিউলিফ, যাঁকে নিয়ে প্রথম বেসামরিক নভোচারী হিসেবে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে লাইভ সম্প্রচার দেখছিল।
৭৩ সেকেন্ডের দুর্ঘটনা
সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে উৎক্ষেপণ শুরু হয়, কিন্তু মাত্র ৭৩ সেকেন্ডে স্পেস শাটলটি আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে যায়। আকাশে সাদা পুচ্ছ রেখা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং খণ্ড খণ্ড অংশ মহাসাগরে নিক্ষিপ্ত হয়। পুরো ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়।
তদন্ত
রাষ্ট্রপতির নির্দেশে গঠিত রজার্স কমিশন তদন্ত করে দেখে যে ডান সলিড রকেট বুস্টারের সিলিং (ও-রিং) ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্ত হয়ে পূর্ণভাবে সিল বন্ধ করতে পারেনি। গরম গ্যাস সেই ফাঁক দিয়ে লিক হয়ে বহিরাগত জ্বালানি ট্যাংকের কাছে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়। উৎক্ষেপণের আগের রাতেই প্রকৌশলীরা ঠান্ডার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু ব্যবস্থাপনা তা আমলে নেয়নি।
পতন ও পরিবর্তন
সাত নভোচারীর সবাই — ফ্রান্সিস স্কোবি, মাইকেল স্মিথ, অ্যালিসন ওনিজুকা, জুডিথ রেজনিক, রোনাল্ড ম্যাকনেয়ার, গ্রেগরি জারভিস ও ক্রিস্টা ম্যাকিউলিফ — দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। নাসা শাটল কর্মসূচি প্রায় তিন বছর স্থগিত রাখে এবং সিলিং, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আনে।
পাঠ
চ্যালেঞ্জার শেখায়, সতর্কবাণী শোনা ও নিরাপত্তা বিধি মান্য় না করা কত বিপজ্জনক হতে পারে। ক্রিস্টা ম্যাকিউলিফ ও তাঁর সহযাত্রীদের স্মরণে পরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাসার শিক্ষা কার্যক্রম নামকরণ করা হয়।
সূত্র: নাসা, হিস্ট্রি চ্যানেল, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
চ্যালেঞ্জার বিস্ফোরণের কারণ কী ছিল?
রাইট সলিড রকেট বুস্টারের সিলিং (ও-রিং) ঠান্ডায় শক্ত হয়ে সিল বন্ধ রাখতে ব্যর্থ হয়; গরম গ্যাস ফাঁস হয়ে জ্বালানি ট্যাংকে পৌঁছে বিস্ফোরণ ঘটায়।
সাত নভোচারী কারা ছিলেন?
কমান্ডার ফ্রান্সিস স্কোবি, পাইলট মাইকেল স্মিথ, মিশন স্পেশালিস্ট অ্যালিসন ওনিজুকা, জুডিথ রেজনিক, রোনাল্ড ম্যাকনেয়ার, পে-লোড স্পেশালিস্ট গ্রেগরি জারভিস এবং শিক্ষক ক্রিস্টা ম্যাকিউলিফ।