২০২৪ সালের আগস্টের বন্যা: ফেনী-কুমিল্লায় আকস্মিক বন্যা, ২৩ প্রাণহানি

- ২০ আগস্ট ২০২৪ থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ডাম্বর বাঁধের পানি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে বন্যা
- ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, খাগড়াছড়িসহ ১১ জেলা
- ৫৭ লাখ (৫.৭ মিলিয়ন) মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; ১২.৪ লাখ পরিবার পানিবন্দি; প্রায় ৪.৭ লাখ মানুষ ৩৫০০ শেল্টারে
- ২৩ জনের মৃত্যু; ফেনীতে ৯২% মোবাইল টাওয়ার অকার্যকর; সেনাবাহিনী উদ্ধারে নামে
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি এবং উজানের নদীপথ থেকে আসা পানির ঢল মিলিয়ে ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ ১১ জেলা তলিয়ে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি
রয়টার্সের হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৩ এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন মানুষ; ১২.৪ লাখ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ফেনী-কুমিল্লা-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে ১৯৮৮ সালের পর এমন বন্যা হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। প্রায় ৪.৭ লাখ মানুষ ৩,৫০০ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন; ৬৫০টির বেশি মেডিকেল টিম কাজ করেছে। যোগাযোগও ভেঙে পড়ে — ফেনী জেলায় ৯২ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অকার্যকর হয়ে যায়।
বিতর্ক
অনেক বাসিন্দা ও প্রশাসক অভিযোগ তোলেন, ভারতের ত্রিপুরার ডাম্বর বাঁধের পানি হঠাৎ খুলে দেওয়ায় বন্যা বেড়েছে; ভারত অবশ্য বাঁধ খোলার কথা অস্বীকার করে বৃষ্টিকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। ফেনীর ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা কয়েক ঘণ্টায় ডুবে যায় বলে বাসিন্দারা জানান।
উদ্ধার
সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থা নৌকা নিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামে; খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ ছিল জরুরি প্রয়োজন। বন্যা নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার ট্রান্স-বাউন্ডারি সমন্বয়ের নতুন প্রশ্ন তোলে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, আল-জাজিরা, রিলিফওয়েব।
প্রশ্নোত্তর
বন্যা কেন এত আকস্মিক ছিল?
টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের ত্রিপুরার উজান থেকে আসা পানির ঢল দ্রুত নদী উপচায়; ফেনী নগরীসহ নিম্নাঞ্চল কয়েক ঘণ্টায় ডুবে যায়।
কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহত হন?
রয়টার্সের হিসাবে ৫.৭ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও ২৩ জনের মৃত্যু; ১২.৪ লাখ পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।