ঘূর্ণিঝড় আম্পান ২০২০: মহামারির মধ্যে সুন্দরবন ও ২৬ জেলায় আঘাত

- ২০ মে ২০২০ রাতে ১৫০ কিমি/ঘণ্টা বাতাস নিয়ে প্রবেশ; সুন্দরবন এলাকা দিয়ে আঘাত
- ২৬ জনের মৃত্যু; ১৯-২৬ জেলায় ২৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (নাওয়ের হিসাবে)
- মহামারির মধ্যে ২৪ লাখের বেশি মানুষকে ১২-১৪ হাজার শেল্টারে সরানো হয়
- ৫৫,৭৬৭ ঘরবাড়ি ধ্বংস, ২ লাখের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; ক্ষয়ক্ষতি ১৩১ মিলিয়ন ডলারের বেশি
২০২০ সালের ১৬ মে ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসে। ২০ মে বেলা শেষে এটি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বেগ নিয়ে সুন্দরবন এলাকা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে — একই সময়ে দেশটি করোনা মহামারির লকডাউনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
ক্ষয়ক্ষতি
আম্পানে মোট ২৬ জন প্রাণ হারান। নাওয়ের হিসাবে ১৯ জেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন; আইএফআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬টি জেলায় ধ্বংসযজ্ঞ চলে। ৫৫,৭৬৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ২,০৫,৩৬৮টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েক হাজার হেক্টরের ফসল ও মাছের ঘের নষ্ট হয়; শত শত কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ভেঙে যায়। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ডলার।
প্রস্তুতি
মহামারির মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্বৈত চাপ সৃষ্টি হয়। তবুও ২০ মে ‘মহাবিপদ সংকেত নম্বর ১০’ জারি করে সরকার ২৪ লাখের বেশি মানুষকে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার শেল্টারে সরিয়ে নেয়; সর্বত্র মাস্ক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার নিয়ম ছিল।
প্রতিফলন
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন ঝড়ের গতি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করেছিল। আম্পান প্রমাণ করে, উন্নত সতর্কতা ও স্থানান্তর ব্যবস্থা থাকলে বড় ঝড়েও প্রাণহানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস, জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়, রিলিফওয়েব।
প্রশ্নোত্তর
কোভিড মহামারিতে স্থানান্তর কীভাবে হয়েছিল?
শেল্টারে মাস্ক ও দূরত্ব বজায় রেখে নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়; ব্যাপক স্থানান্তরই প্রাণহানি কম রাখতে সাহায্য করে।
আম্পান কতটা ক্ষতি করে গেছে?
আইএফআরসি-নাওয়ের হিসাবে ২৬ জনের মৃত্যু, ৫৫,৭৬৭ ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং প্রায় ১৩১ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি।