ইতিহাসনিশ্চিত [B]

সিডর ঘূর্ণিঝড় ২০০৭: উপকূলে ৩ হাজার ৪৪৭ জনের মৃত্যু

1 মিনিট পাঠ
সিডর ঘূর্ণিঝড় ২০০৭: উপকূলে ৩ হাজার ৪৪৭ জনের মৃত্যু — ছবি: Seluryar (BY-SA)
সিডর ঘূর্ণিঝড় ২০০৭: উপকূলে ৩ হাজার ৪৪৭ জনের মৃত্যু — ছবি: Seluryar (BY-SA)
এক নজরে
  • ১৫ নভেম্বর ২০০৭ রাতে উপকূলে আঘাত হানে; বাতাসের গতি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার
  • সরকারি হিসাবে নিহত ৩,৪৪৭ জন; নিখোঁজ দুই হাজারের বেশি
  • ২৮টি জেলায় ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; ধ্বংস হয়েছে ৩ লক্ষাধিক ঘর
  • পূর্ব সতর্কতা ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া মৃত্যু মারাত্মকভাবে কমিয়েছিল

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; ঝড়টি স্যাফায়ার-সিম্পসন মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছিল।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

সরকারের আনুষ্ঠানিক হিসাবে ঝড়ে ৩,৪৪৭ জন নিহত হন; নিখোঁজ দুই হাজারের বেশি মানুষ তখনো শনাক্ত করা যায়নি। উপকূলের ২৮টি জেলার ৪০ লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে প্রায় তিন লক্ষ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও আরও লক্ষাধিক ঘর আংশিক ধ্বংস হয়, ভেসে যায় কয়েক লাখ একর ফসল। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি হয় বরগুনা ও পটুয়াখালীতে — সেখানে যথাক্রমে ৪২৩ ও ৩৮৫ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

শিক্ষা ও প্রস্তুতি

১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের (প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার নিহত) পর বাংলাদেশে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও সময়মতো উচ্ছেদে বড় অগ্রগতি হয়েছিল। সিডরের সময় তা ভূমিষ্ঠ প্রমাণিত হয় — শত শত মানুষকে ঝড়ের আগেই আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। মৃত্যুর সংখ্যা এখনো বেশি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে পূর্বসতর্কতা ছাড়া ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) প্রতিবেদন।

প্রশ্নোত্তর

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কোন জেলায়?

বরগুনা ও পটুয়াখালী — যথাক্রমে ৪২৩ ও ৩৮৫ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্থানীয় প্রশাসন।

সিডর কত বড় ঝড় ছিল?

স্যাফায়ার-সিম্পসন মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছেছিল; প্রাক-আঘাতের রেকর্ডে ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার গতির তথ্য পাওয়া যায়।