ইতিহাসনিশ্চিত [B]

হাইতি ভূমিকম্প ২০১০: রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স লণ্ডভণ্ড, লক্ষাধিক প্রাণহানি

1 মিনিট পাঠ
হাইতি ভূমিকম্প ২০১০: রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স লণ্ডভণ্ড, লক্ষাধিক প্রাণহানি — ছবি: Scottish Government (BY)
হাইতি ভূমিকম্প ২০১০: রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স লণ্ডভণ্ড, লক্ষাধিক প্রাণহানি — ছবি: Scottish Government (BY)
এক নজরে
  • ১২ জানুয়ারি ২০১০ বিকালে হাইতিতে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে; কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানীর কাছে
  • হাইতি সরকারের হিসাবে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন; প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
  • রাষ্ট্রপতি ভবন, ক্যাথেড্রাল ও সরকারি অফিসগুলো ধসে পড়ে; ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়
  • জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা সদর দপ্তরও ধসে পড়ায় মিশন প্রধানসহ বহু কর্মী নিহত হন

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে পশ্চিমা গোলার্ধের দরিদ্রতম দেশ হাইতিতে ৭.০ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের মাত্র ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে; গভীরতা ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কম্পনেই রাষ্ট্রের রাজধানী ধ্বসে যায়।

ধ্বংস ও প্রাণহানি

হাইতি সরকারের হিসাবে অন্তত ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যান; প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। রাজধানীর ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাসস্থান ও ৩০ হাজার বাণিজ্যিক ভবন ভেঙে পড়ে। রাষ্ট্রপতি ভবন, জাতীয় ক্যাথেড্রাল, সংসদ ভবনসহ প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চব্বিশতলা সদর দপ্তর ধসে পড়ায় মিশন প্রধান হেদি আনাবিসহ বহু কর্মী নিহত হন।

ত্রাণ সংকট

পোর্ট-অ-প্রিন্সের বন্দর ও বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ সরবরাহ দ্রুত সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপক ত্রাণ পাঠালেও সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাহায্য পৌঁছাতে দীর্ঘ দিন লেগে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাসপাতালের বিশাল অংশই ধ্বংস হয়ে যায়।

পুনর্বাসন

ভূমিকম্পের পর ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন থাকেন; তাঁবুতে অনেক দিন মানুষকে থাকতে হয়। রোগ, নিরাপত্তা ও খাদ্য সংকট নতুন সমস্যা তৈরি করে। ২০১০ সালের অক্টোবরে কলেরা প্রাদুর্ভাবেও হাজার হাজার মানুষ মারা যান, যা ভূমিকম্প পরবর্তী বিপর্যয়কে আরও গভীর করে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, ইউএসজিএস/ইইআরআই, ওসিএইচএ।

প্রশ্নোত্তর

হাইতিতে ভূমিকম্পে এত মানুষ মারা গেলেন কেন?

অগভীর ভূমিকম্প ছিল; আরও গুরুত্বপূর্ণ, হাইতির নিম্নমানের নির্মাণ, ঘনবসতি ও দুর্বল সরকারি অবকাঠামো ধ্বংসের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেমন হয়?

বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশ ও সংস্থা ত্রাণ পাঠায়; কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত বন্দর ও সড়ক ব্যবস্থার কারণে ত্রাণ পৌঁছাতে মাসের পর মাস লেগে যায়।