ব্রেক্সিট গণভোট ২০১৬: ৫২-৪৮-এ ইইউ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের

- ২৩ জুন ২০১৬ যুক্তরাজ্যে ইইউ ত্যাগের গণভোট হয়; ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২.২ শতাংশ
- লিভ ভোট পায় ৫১.৯%, রিমেন ৪৮.১%—প্রায় ১৭৪ লাখ মানুষ ইইউ ছাড়তে ভোট দেন
- স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও লন্ডনসহ কিছু এলাকা রিমেনের পক্ষে ভোট দেয়
- ফল প্রকাশের পর দিন রিমেন সমর্থনকারী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা দেন
২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক গণভোটে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায় দেয়। ভোটের ফলাফল ঘোষণা হলে গোটা ইউরোপ জুড়ে চাঞ্চল্য পড়ে যায়; ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের গণজাগরণে লিভ (ইউনিয়ন থেকে প্রস্থান) শিবির জয়ী হয়।
ফলাফল ও গণভোট
কমন্স লাইব্রেরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭২.২ শতাংশ; ৩ কোটি ৩৫ লাখের বেশি মানুষ ভোট দেন। লিভ পায় ৫১.৯ শতাংশ (প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ ভোট), রিমেন ৪৮.১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল রিমেনের পক্ষে থাকলেও মধ্যপ্রদেশ ও প্রাদেশিক এলাকার ভোট লিভের দিকে ঝোঁকে।
রাজনৈতিক ধাক্কা
রিমেন সমর্থনকারী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ফল প্রকাশের পর দিনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন; তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। পাউন্ডের মান একদিনে ব্যাপক কমে যায়, বিশ্ববাজার টালমাটাল হয়। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধেও দলের অভ্যন্তরে চাপ তৈরি হয়।
পরিণতি
ক্যামেরনের স্থলাভিষিক্ত হন থেরেসা মে; প্রস্থান প্রক্রিয়া ‘আর্টিক্যাল ৫০’-এর মাধ্যমে শুরু হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ছেড়ে যায়। ব্রেক্সিট ছিল ব্রিটেনের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
ব্রেক্সিট কী?
'ব্রিটেন এক্সিট'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ; যে প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ছেড়ে যায়, তাকে ব্রেক্সিট বলে।
গণভোটের ফলাফল কী প্রভাব ফেলেছে?
পাউন্ডের দামে ধস, ক্যামেরনের পদত্যাগ, আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত বিতর্ক এবং ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থান—সবচেয়ে বড় প্রভাব এইগুলো।