কোভিড-১৯ মহামারি ঘোষণা ২০২০: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

- ১১ মার্চ ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯ কে মহামারি ঘোষণা করে
- ঘোষণার সময় বিশ্বে ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি সংক্রমণ ছিল; ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ায় মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৪,২৯১ জন
- ঘোষণার সময় চীনের বাইরে সংক্রমণ দুই সপ্তাহে ১৩ গুণ বেড়ে গিয়েছিল
- বিশ্ব ইতিহাসে প্রথম করোনাভাইরাসজনিত মহামারি; পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে লকডাউন-টিকাদান-নতুন রূপ ওঠার ঢেউ লাগে
২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম জেনেভার সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এতটাই ব্যাপক যে এটিকে এখন মহামারি বলতে হবে। এই ঘোষণার আগেই রোগটি ১১৪টি দেশে পৌঁছেছিল।
সংখ্যার ভয়াবহতা
ঘোষণার দিন বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি সংক্রমণ এবং ৪,২৯১ জনের মৃত্যুর নথিভুক্তি ছিল। চীন ছিল সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য ও আমেরিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল ভাইরাসটি; চীনের বাইরে সংক্রমণ দুই সপ্তাহেই ১৩ গুণ বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষায়, এখন ‘কোনও শব্দই অসাবধানতার জন্য ব্যবহার হয় না’—তবে তথ্য বলছে, এটি বড় সতর্কবার্তা।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া
মার্চ শেষে বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে; ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন জারি হয়। সীমান্ত বন্ধ, উড়ান স্থগিত, স্কুল-কলেজ বন্ধ—দৈনন্দিন জীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়াতেও সংক্রমণ ঢেউ শুরু হয়।
প্রথম করোনাভাইরাস মহামারি
মহামারি ঘোষণার পাঁচদিন পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা অব্বার নিশ্চিত করে। ইতিহাসে এটি প্রথম করোনাভাইরাসজনিত মহামারি এবং মহামারি হিসেবে এমন ভাইরাস যা বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়েছে। পরবর্তীকালে ভ্যাকসিন তৈরি, বুস্টার, ট্র্যাকিং ও নতুন রূপ (ডেল্টা, ওমিক্রন) নিয়ে দীর্ঘ লড়াই গড়ে ওঠে।
প্রভাব
কোভিড-১৯ মহামারি কেবল স্বাস্থ্যই নয়, অর্থনীতি, শিক্ষা ও বৈশ্বিক যোগাযোগের ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়; দূরবর্তী কাজ ও অনলাইন ক্লাস হয়ে ওঠে নতুন বাস্তবতা। মহামারি ঘোষণাটি ছিল আধুনিক চিকিৎসা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সিচুয়েশন রিপোর্ট ৫১।
প্রশ্নোত্তর
'মহামারি' ঘোষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
এর মাধ্যমে রোগটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়; দেশগুলোকে সমন্বিত প্রস্তুতি, নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে উদ্বুদ্ধ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
মহামারির পরে কী হয়েছিল?
বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ, লকডাউন, স্কুল-ব্যবসা স্থগিত এবং ভ্যাকসিন গবেষণা ত্বরান্বিত হয়; ২০২০ সালের মধ্যে করোনা বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।