ইতিহাসনিশ্চিত [B]

২৮ অক্টোবর ২০২৩: কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল — দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম

1 মিনিট পাঠ
২৮ অক্টোবর ২০২৩: কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল — দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম — ছবি: The Daily Star — PM inaugurates Bangabandhu Tunnel
২৮ অক্টোবর ২০২৩: কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল — দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম — ছবি: The Daily Star — PM inaugurates Bangabandhu Tunnel
এক নজরে
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৩ সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে পতেঙ্গায় উদ্বোধন; পরদিন সকাল ৬টা থেকে যান চলাচল শুরু
  • মূল টানেল ৩.৩২ কিমি (দুই টিউবে ৪ লেন); মোট রুট ৯.৩৯ কিমি (লিংক রোডসহ)
  • নদীর ১৮-৩১ মিটার নিচে; সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিমি/ঘণ্টা; প্রতিদিন ১৭ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপারের ক্ষমতা
  • প্রকল্প খরচ ১০,৬৮৯ কোটি টাকা; চীনের ঋণে প্রায় অর্ধেক অর্থায়ন (এক্সিম ব্যাংক)

১৯৯৮ সালের জামুনা সেতুর পর বাংলাদেশের সড়ক-যোদ্ধা ইতিহাসে ২০২৩ সালের একটি নাম স্মরণীয় হয়ে থাকে — কর্ণফুলী টানেল। ২৮ অক্টোবর ২০২৩ দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পানির নিচের টানেলটি উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের বিবরণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে পতেঙ্গাকে দক্ষিণের আনোয়ারা উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩.৩২ কিলোমিটার; দুইটি টিউবে মোট চার লেন যান চলাচলের ব্যবস্থা। দুই প্রান্তে ৫.৩৫ কিলোমিটার করে লিংক রোড ও আনোয়ারা প্রান্তে ৭২৭ মিটার ফ্লাইওভারসহ পুরো রুটের দৈর্ঘ্য ৯.৩৯ কিলোমিটার। নদীর ১৮ থেকে ৩১ মিটার নিচ দিয়ে টানেলটি তৈরি করা হয়েছে; সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার।

অর্থায়ন ও নির্মাণ

এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা; এর প্রায় অর্ধেক জোগান দেয় চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ। টানেলটি নির্মাণ করেছে চীনের কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন; ২০১৯ সালে টানেল বোরিং (খনন) শুরু হয়।

গুরুত্ব

টানেলটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানির নিচের সড়ক টানেল — যা চট্টগ্রাম বন্দর, মহাসড়ক ও বিমানবন্দরের মধ্যে দ্রুত সংযোগ তৈরি করেছে। কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ মডেলের বাস্তবায়ন, শিল্প-কারখানা ও নতুন বন্দর-কেন্দ্রিক অর্থনীতির জমি এই টানেলের সফলতায় নির্ভর করে। পর্যটক ও নাগরিকদের কাছে এটির প্রথম দিনের ছবিই হয়ে থাকে সাধারণ বাংলাদেশি জীবনে অবকাঠামো-নবজাগরণের প্রতীক।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, দি ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস)।

প্রশ্নোত্তর

টানেলটি কোথায় অবস্থিত?

চট্টগ্রাম বন্দর শহরের পতেঙ্গা অংশ থেকে কর্ণফুলী নদীর নিচে দিয়ে দক্ষিণের আনোয়ারা পর্যন্ত।

এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানির নিচের সড়ক টানেল; ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যবস্থাকে যুক্ত করে অর্থনীতির নতুন সুযোগ তৈরি করে।