ইতিহাসনিশ্চিত [B]

বার্লিন বিমান উড়ান (১৯৪৮-৪৯): অবরুদ্ধ বার্লিনে পশ্চিমাদের ৩২ লাখ টন সাহায্য

1 মিনিট পাঠ
বার্লিন বিমান উড়ান (১৯৪৮-৪৯): অবরুদ্ধ বার্লিনে পশ্চিমাদের ৩২ লাখ টন সাহায্য — ছবি: PBS American Experience — The Berlin Airlift
বার্লিন বিমান উড়ান (১৯৪৮-৪৯): অবরুদ্ধ বার্লিনে পশ্চিমাদের ৩২ লাখ টন সাহায্য — ছবি: PBS American Experience — The Berlin Airlift
এক নজরে
  • ১৯৪৮ সালের ২৪ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনের স্থল ও রেলপথ অবরোধ করে
  • মার্কিন, ব্রিটিশ, ফরাসি ও কমনওয়েলথ বিমানগুলো প্রায় পনেরো মাসে ৩২ লাখ টনের বেশি ত্রাণ বহন করে
  • জেনারেল লুসিয়াস ক্লের নির্দেশে ছাব্বিশ জুন থেকে বিমান উড়ান শুরু হয়, সবচেয়ে বড় ফ্লাইট ১৬ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে
  • ১৯৪৯ সালের ১২ মে অবরোধ প্রত্যাহার হয়, যা ঠান্ডা যুদ্ধের প্রথম বড় সঙ্কটের সমাপ্তি ঘটায়

১৯৪৮ সালের ২৪ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম বার্লিনের সব স্থলপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অধিকৃত সেক্টরবাসী প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। সোভিয়েত নেতৃত্ব আশা করেছিল যে পশ্চিমা শক্তিগুলো শহর ছেড়ে দেবে, কিন্তু জবাবে পশ্চিমারা আকাশপথের এক সাহসী পরিকল্পনা বেছে নেয়।

বিমান উড়ানের শুরু

মার্কিন জেনারেল লুসিয়াস ক্লের সিদ্ধান্তে ২৬ জুন থেকে বিমান উড়ান শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন মনে হলেও দক্ষিণ আমেরিকানসহ পশ্চিম জার্মানির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সি-৪৭ ও ডাকোটা বিমানগুলো প্রতিবার বার্লিনে ত্রাণ পৌঁছে দিতে শুরু করে। বিমানবন্দর টেম্পেলহফ, গ্যাটো ও টেগেল হয়ে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি, খাদ্য, কয়লা ও ওষুধ আনা হয়।

সবচেয়ে বড় পৌছে দেওয়া

বছরের পর বছর ধরে উড়ান তীব্র হয়; মাঝে ৪ এপ্রিলের ফ্লাইটে বার্লিনবাসী কয়েকবার বিপদ থেকে বাঁচে। সবচেয়ে বড় দিন হিসেবে ১৬ এপ্রিল ১৯৪৯ সালে একদিনে প্রায় তেরো হাজার টন ত্রাণ নামানো হয়। মোট প্রায় পনেরো মাস ধরে ৩২ লাখ টনের বেশি পণ্য পৌঁছে যায়, যা শহরকে বাঁচিয়ে রাখে।

অবরোধের সমাপ্তি

অবরোধ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব বুঝে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ ১৯৪৯ সালের ১২ মে অবরোধ তুলে নেয়। নিউইয়র্কে আলোচনার পর গৃহীত চুক্তিতে চার শক্তির মধ্যে বার্লিন প্রশ্নের সমাধান এগোয়। বার্লিন বিমান উড়ান ঠান্ডা যুদ্ধের প্রথম বড় কূটনৈতিক ও সামরিক সংঘর্ষ হিসাবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

পাঠ

ঘেরাও চালিয়ে কোনো শহরকে ভেঙে দেওয়া যায় না, বার্লিনবাসীর সংগ্রাম ও পশ্চিমা স্থিরতা তা প্রমাণ করে। বিমান উড়ান পরে ন্যাটোসহ পশ্চিমা জোটের সামরিক সহযোগিতার প্রতীক হয়ে ওঠে এবং বায়ুযোগে নজরদারি ও ত্রাণ কৌশলের অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে গণ্য হয়।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, পিবিএস, হিস্টরি ডট কম, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

বার্লিন অবরোধ কেন শুরু হয়েছিল?

সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিম জার্মানিতে নতুন পশ্চিম জার্মান মুদ্রা চালু ও পশ্চিমা অঞ্চল একীকরণের প্রতিবাদে পশ্চিম বার্লিনের সব স্থল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

বার্লিনের মানুষের দৈনিক প্রয়োজন কত ছিল?

দুই লাখের বেশি মানুষের জন্য দৈনিক প্রায় সাড়ে চার হাজার টন ত্রাণ প্রয়োজন ছিল;