ওসামা বিন লাদেন নিধন (২০১১): আব্বোটাবাদে সিল অভিযান

- ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের আব্বোটাবাদে মার্কিন নৌ-সিলদের অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন
- অভিযানটি অপারেশন নেপচুন'স স্পিয়ার নামে পরিচিত; গোয়েন্দা নজরদারি বছরের পর বছর চলে
- নিহতদের মধ্যে ওসামা ছাড়াও তার প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র ও আরও কয়েকজন ছিলেন
- ওসামার মরদেহ নিয়ে সাগরে দাফন করা হয়; অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি
২০১১ সালের মে মাসের এক রাতে মধ্যপ্রাচ্যের আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সন্ধান মিলে। গোয়েন্দা সংস্থা বহু বছর ধরে তার গতিবিধি অনুসরণ করছিল; পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আব্বোটাবাদে এক বিশাল প্রাচীরঘেরা কম্পাউন্ডে লুকিয়ে থাকার তথ্য পাওয়ার পর অপারেশন নেপচুন’স স্পিয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
বিশেষ অভিযান
২ মে ২০১১ সালে ভোরে মার্কিন নৌ-সিলের বিশেষ বাহিনী ইউনিট হেলিকপ্টারে করে কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। মিশনের প্রথম দিকেই একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটে, তবে দল অভিযান চালিয়ে যায়। তৃতীয় তলায় ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া যায়; সেখানে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।
নিশ্চিতকরণ ও ঘোষণা
সেনাবাহিনী দ্রুত মরদেহ শনাক্ত করে; ডিএনএ ও অন্যান্য প্রমাণে নিশ্চিত হওয়ার পর ওসামার পরিচয় নিশ্চিত হয়। ওই রাতেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শহরে মানুষ জমায়েত হয়ে উদযাপন করে।
বিতর্ক ও ফলাফল
পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে পরিচালিত এই অভিযানকে পাকিস্তানে তীব্র সমালোচনা করা হয়। ওসামার মরদেহ সাগরে দাফনের সিদ্ধান্তও আলোচনার জন্ম দেয়। আল-কায়েদা নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলেও সংগঠনের শাখাগুলো স্বাধীনভাবে সক্রিয় থাকে।
পাঠ
এ অভিযান প্রমাণ করে যে দীর্ঘ গোয়েন্দা কাজ ও নির্ভুল সামরিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে নির্মূল করা সম্ভব। একইসঙ্গে এটি গোয়েন্দা, সামরিক ও আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে কঠিন ভারসাম্যের প্রশ্নও তোলে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
অভিযান কেন আব্বোটাবাদে হয়েছিল?
গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়ে যে ওসামা আব্বোটাবাদের একটি বড় কম্পাউন্ডে পরিবারসহ লুকিয়ে আছেন; একাধিক বছর ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ চলছিল।
ওসামার মরদেহের কী করা হয়েছিল?
যাচাই প্রক্রিয়ার পর তার মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে কোনো স্থান তার কবর হয়ে বিতর্কের কেন্দ্র না হয়।