২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিল: পদ্মা সেতুর স্বনির্ভর নির্মাণের সিদ্ধান্ত

- ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্র' উল্লেখ করে ১.২ বিলিয়ন ডলারের পরিচয়পত্র বাতিল করে
- এর ~৯ দিন পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন
- পরবর্তীতে জাপানের জাইকা প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়; বাংলাদেশও নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করে
- ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয়
২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক ঘোষণা করে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তারা যে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল, তা তারা বাতিল করছে। কারণ হিসেবে তারা ’দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ের কথা উল্লেখ করে এবং জানায়, কানাডিয়ান ঠিকাদার এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ উঠেছে।
সিদ্ধান্তের ঘোষণা
বিশ্বব্যাংকের এই ঘোষণার প্রায় নয় দিন পর, ২০১২ সালের জুলাই মাসে, সংসদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে। তিনি বলেন, সেতুটি বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে। এই ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি দাতা সংস্থা প্রকল্প থেকে সরে যায়, কিন্তু সরকার নিজের উদ্যোগে এগিয়ে যায়।
অর্থায়ন ও সমাপ্তি
পরে জাপানের জাইকা প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেয় এবং বাকি অর্থ বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে আসে। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বিতল সেতুটি পদ্মা নদীর উপর নির্মিত হয়। ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করেন; উদ্বোধনের দিনেই সেতু পাড়ি দিয়ে হাজারো মানুষ উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।
সেতুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে এবং লজিস্টিক ও পর্যটনে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিলের ঘটনা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আত্মনির্ভরতার এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, উইকিপিডিয়া, আল-জাজিরা।
প্রশ্নোত্তর
বিশ্বব্যাংক কেন ঋণ বাতিল করেছিল?
তারা বলেছিল, সেতু প্রকল্পে 'দুর্নীতির ষড়যন্ত্র' (conspiracy) পাওয়া গেছে এবং আইসিডি বিভাগ অভিযোগ তদন্ত করছে।
স্বনির্ভর নির্মাণের পরে অর্থায়ন এল কোথা থেকে?
জাপানের জাইকা পর্যায়ক্রমে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়; বাকি অর্থ বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল থেকে আসে।