জুলাই ২০১৮: সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত ও নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন

- ২৯ জুলাই ২০১৮, কুর্মিটোলার এয়ারপোর্ট রোডে দুই কলেজ শিক্ষার্থী (ডিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজিব) বাসে নিহত
- বাসটি আরেকটি বাসের সঙ্গে রেসে নেমে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
- আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বাস-ট্রাক থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক, রাজপথে মানববন্ধন ও বিশাল মিছিল চালায়
- ৪ আগস্ট রাতে ইন্টারনেট-সেবা সীমিত করে সরকার; ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভা নতুন সড়ক পরিবহন আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয়
২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার বুকে এক বেপরোয়া বাসের চাপায় মৃত্যুবরণ করেন দুই কিশোর শিক্ষার্থী — ডিয়া খানম মিম এবং আব্দুল করিম রাজিব। ঘটনাটি ছিল কুর্মিটোলার এয়ারপোর্ট রোডে, সন্ধ্যা নাগাদ; সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসচালক আরেকটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। এই দুই প্রাণের মৃত্যু দেশজুড়ে এক অভূতপূর্ব সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনকে জন্ম দেয়।
আন্দোলন
ঘটনার পরদিন থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। রাজধানী, বিভাগীয় শহর ও গ্রামীণ সড়কে শিক্ষার্থীরা বাস-ট্রাক থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স যাচাই করা শুরু করে; অযোগ্য পেয়ে গাড়ি আটকে দেয়। দেশ জুড়ে হরতাল-অবরোধে যানবাহন অচল হয়ে যায়। আন্দোলনের স্লোগান ছিল ‘আমরা চাই ন্যায়বিচার’; দাবি ছিল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দায়ী বাস মালিকদের বিচার।
প্রতিক্রিয়া ও চাপ
সরকার প্রথমে দৃঢ়তার ভাষায় আন্দোলনকারীদের ফেরত যেতে বলে; ৪ আগস্ট রাতে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হয়। তবে আন্দোলনের জোয়ারে ৫ আগস্ট শাহবাগে হাজারো শিক্ষার্থীর বিশাল সমাবেশ হয়; দাবি ওঠে পরিবহনমন্ত্রীকে পদত্যাগের। ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভা নতুন সড়ক পরিবহন আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয় — এরপর ২০১৮ নামে পরিচিত সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়।
লক্ষ্য
আন্দোলন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার কয়েক হাজার পরিবারের বেদনাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে আসে; এটিই পরবর্তীতে দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিতর্কের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, দি ডেইলি স্টার, টাইম।
প্রশ্নোত্তর
মিম ও রাজিব কারা ছিলেন?
তারা শাহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন; বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আন্দোলনের দাবিগুলো কী ছিল?
বেপরোয়া চালকদের শাস্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো বন্ধ, নিরাপদ সড়ক আইন ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার।