বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ১৯৭৫: কালো রাতে জাতির পিতার নিষ্ঠুর হত্যা

- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভোরে সেনা সদস্যরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে হত্যাযজ্ঞ চালায়
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে ও অন্যদেরসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্য নিহত হন
- ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতা দখল করেন এবং জরুরি অবস্থা জারি হয়
- জনসাধারণের প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও ঘাতকরা অনেক দিন ছাড়-পেয়ে থাকেন
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতার বিরুদ্ধে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি ক্রমশ ষড়যন্ত্র গড়ে ওঠে। ১৯৭৫ সালের গোড়ায় সংবিধান সংশোধন করে একদলীয় ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার চালু হয়; এই পরিবর্তন বিতর্কিত হয় এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
কালো রাত
১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের ভোরে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ট্যাংক ও সৈন্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবন ঘিরে ফেলে। ভোর আড়াইটার দিকে গুলি বর্ষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্য প্রাণ হারান। ঘাতকরা বাসভবন ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়; বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান।
ক্ষমতা দখল
ঘটনার পরপরই উপ-রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন এবং রাষ্ট্রপতি আইন জারি করেন। তিনি বিদেশে থাকা মেয়ে শেখ হাসিনা-রেহানার দেশে ফেরার ব্যাপারে বাধা দেন; হত্যাকাণ্ডের পর বংশধরদের নিরাপত্তায় শেষ পর্যন্ত সে সময় তাঁদের বিদেশেই থাকতে হয়।
প্রতিক্রিয়া ও বিচার
হত্যাকাণ্ডে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়, সারা দেশে শোক ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর ভিন্নমতপূর্ণ অংশ বারবার বিদ্রোহ দাবি করে; অবশেষে ১৯৮০-র দশক থেকে ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকার ঘাতকদের বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। ২০০৯ সালের সরকার ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন করে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।
উত্তরাধিকার
বঙ্গবন্ধুর দর্শন — বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র — বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ। ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ আখ্যায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পবিত্র স্মৃতিস্থল এবং জাতীয় শোকের প্রতীক।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, বিডিনিউজ২৪, বাংলাপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
হত্যাকাণ্ডের পর কী ঘটে?
খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন; বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের কেউ কেউ বিদেশে চলে যান, পরে মামলা ও রায়ের পর তাদের বিচার ও ফাঁসি হয়।
হত্যাকাণ্ডে কীভাবে কেউ বেঁচে ফিরেন?
বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান; বাঙালিদের নেতৃত্বের কাণ্ডারি হন শেখ হাসিনা।