২০২১ সালে রূপগঞ্জের হাশেম ফুডস অগ্নিকাণ্ড: লকড ডোরে ৫২ প্রাণহানি

- ৮ জুলাই ২০২১ বিকেল ৫টায় রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় হাশেম ফুডসের ছয়তলা কারখানায় আগুন
- আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে ৯ জুলাই ১২টা ৩৫ মিনিটে; প্রায় ২৪ ঘণ্টা জ্বলে (খাদ্য-তেলের কারণে)
- অন্তত ৫২ জন নিহত; ২৬ জন আহত; অনেক শ্রমিক উপরের তলা থেকে লাফ দেন
- প্রাথমিক উদ্ধারকাজে ভুলের পর পুলিশ অগ্নিকাণ্ডে দায়ীদের আটক করে; তদন্ত কমিশন গঠিত হয়
২০২১ সালের ৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা-কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুডস লিমিটেডের ছয়তলা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। জুস ও খাদ্যপণ্য তৈরির এই কারখানাটিতে তখন শত শত শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
দহন ও উদ্ধার
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট প্রায় ১২টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে; তবে মোট ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। কারখানায় মজুদ চকলেট-হ্যাজেলনাট স্প্রেড ‘নোসিলা’-র ভোজ্য তেল আগুনে জ্বালানি যোগায়। বহির্গমন দরজা ভেতর থেকে লক থাকায় অনেকে পালাতে পারেননি; মৃতদের মধ্যে ২৫ জনেরও বেশি তৃতীয় তলায় এক কোণে পাওয়া যায়।
প্রাণহানি
ফায়ার সার্ভিস, এপি ও পিবিএস-এর প্রতিবেদনে অন্তত ৫২ জন নিহতের কথা নিশ্চিত হয়; আহত ২৬ জনের বেশি। অনেক শ্রমিক উপরের তলা থেকে লাফ দিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
দায় ও পরিণতি
ঘটনার পরদিনই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ৮ জনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই মর্মান্তিক ঘটনা শিল্প নিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমনের নিয়ম নিশ্চিত করার শিক্ষা দেয়।
সূত্র: বিবিসি নিউজ, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
প্রশ্নোত্তর
দরজা লক থাকায় কেন মানুষ আটকা পড়েন?
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায় মূল বহির্গমন দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল; অনেকে সিঁড়ি ও জানালা দিয়ে বেরোতে গিয়ে দগ্ধ হন।
মোট কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল?
ফায়ার সার্ভিস ও এপি-পিবিএস-সহ সব সূত্রই অন্তত ৫২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে; অর্ধশতাধিক আহত হন।