ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ২০১৯: সুন্দরবন হয়ে আঘাত, ৯ জেলায় ২৬ প্রাণহানি

- ৯ নভেম্বর ২০১৯ রাতে খুলনার সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ; পূর্বসূরি 'খুব মারাত্মক' ঝড়
- পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপে প্রথম আঘাত; তারপর বাংলাদেশে ঢোকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে
- দৈনিক স্টারের হিসাবে ৯ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু; ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
- ২ লাখের বেশি মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে রাত কাটায়; বিদ্যুৎ ও টেলিকম ব্যাপক বিঘ্নিত হয়
২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপে আঘাত হানে এবং এরপর সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে প্রবেশ করে। শুরুতে ঝড়টিকে ‘খুব মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়’ বলা হলেও মাটিতে নামার সময় শক্তি কিছুটা কমে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি
দৈনিক স্টার জানায়, ঝড়ে ৯ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়; বেশিরভাগই গাছ চাপা পড়ে। বরিশালে ৫ জন, খুলনায় ৩ জনসহ বাগেরহাট, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, মাদারীপুর ও সাতক্ষীরায় প্রাণহানি ঘটে। ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৩টি দক্ষিণাঞ্চলের জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। গাছ, খুঁটি, যোগাযোগ টাওয়ার হেলে পড়ে।
স্থানান্তর
ঝড়ের আগে লক্ষাধিক মানুষকে সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়; দুই দেশ মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ শেল্টারে রাত কাটায়। বাংলাদেশের উপকূলীয় প্রশাসন আগাম সতর্কতা দেয় এবং মাছ ধরার নৌকা ডেকে ডেকে আনা হয়। সুন্দরবনের গাছপালা ও ম্যানগ্রোভ ঝড়ের আঘাত কিছুটা সামলায়।
পরিণতি
ঝড়ের পর ত্রাণ ও বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়; মৃত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। বুলবুল স্মরণ করিয়ে দেয়, জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে উপকূলীয় জনপদ প্রতি মৌসুমেই ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে এবং জীবনের ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতিই মূল অস্ত্র।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, বিবিসি নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান।
প্রশ্নোত্তর
বুলবুল কোথা দিয়ে প্রবেশ করেছিল?
প্রথমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপে আঘাত করে; পরে সুন্দরবন এলাকা দিয়ে খুলনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বাংলাদেশে মৃত্যু ও ক্ষতি কী ছিল?
দৈনিক স্টার অনুযায়ী ৯ জেলায় ২৬ জনের মৃত্যু; ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লক্ষাধিক মানুষ শেল্টারে আশ্রয় নেয়।