ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ভোলা ঘূর্ণিঝড় (১৯৭০): ইতিহাসের প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়, ১২ নভেম্বরের বিপর্যয়

1 মিনিট পাঠ
ভোলা ঘূর্ণিঝড় (১৯৭০): ইতিহাসের প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়, ১২ নভেম্বরের বিপর্যয় — ছবি: WMO — World's deadliest tropical cyclone was 50 years ago
ভোলা ঘূর্ণিঝড় (১৯৭০): ইতিহাসের প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়, ১২ নভেম্বরের বিপর্যয় — ছবি: WMO — World's deadliest tropical cyclone was 50 years ago
এক নজরে
  • ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সালে রাতের বেলা ঘূর্ণিঝড়টি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূল অতিক্রম করে
  • প্রায় ১০ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস দ্বীপাঞ্চল প্লাবিত করে; অনুমান অনুযায়ী ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারান
  • বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এটি রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়
  • দুর্যোগের পরে ত্রাণ ব্যর্থতা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ বাড়ায় এবং স্বাধীনতার আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে

১৯৭০ সালের নভেম্বরের শুরুতে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ৮ নভেম্বর ডিপ্রেশন তৈরি হয়ে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে ১০ নভেম্বর সর্বোচ্চ গতি (প্রায় ১৮৫ কিমি/ঘণ্টা বাতাস) পায়। ১২ নভেম্বর রাতের দিকে এটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপকূল অতিক্রম করে।

বিপর্যয়ের রাত

প্রায় ১০ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলে নিম্ন ভূমির দ্বীপাঞ্চলের উপর আছড়ে পড়ে। ভোলা দ্বীপসহ উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত থানা তাজুমুদ্দীনে জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশের বেশি নিহত হন; শত শত গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

প্রাণহানির পরিমাণ

পরবর্তী সমীক্ষায় মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ হাজার থেকে ৫০০ হাজারের মধ্যে অনুমান করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ১৯৯০-এর দশকের পরে এটিকে রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষ; হাজার হাজার নৌকা, গবাদি পশু ও ফসল ধ্বংস হয়ে যায়।

কাঠামো ও ভবিষ্যৎ

দুর্যোগের পর কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের ধীর ত্রাণ প্রতিক্রিয়া পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়; কয়েক মাস পরেই ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও একাত্তরের স্বাধীনতার আন্দোলনে তা বড় ভূমিকা রাখে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুর্যোগ পূর্বাভাস ও প্রস্তুতিতে নতুন ভাবনার সূচনা করে।

পাঠ

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রমাণ করে যে ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ও সাইক্লোন শেল্টারের মতো পরিকল্পনা না থাকলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মানবজীবনে কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এখন উপকূলীয় অঞ্চলে শত শত সাইক্লোন শেল্টার, তাড়াতাড়ি সতর্কবার্তা ও স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থা সেই পাঠেরই ফল।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে কত মানুষ মারা গিয়েছিল?

সরকারি অনুমানে ৩০০ হাজার থেকে ৫০০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান; ইউনিয়নের সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত থানা তাজুমুদ্দীনে জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি নিহত হন।

জলোচ্ছ্বাস কত উচ্চতার ছিল?

ভোলা দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ মিটার (৩৩ ফুট) পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়, যা উচ্চ জোয়ারের সময় পড়ায় ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।