২০২২ সালে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপো আগুন: ভুল লেবেলের রাসায়নিক ও ৪৯ প্রাণহানি

- ৪ জুন ২০২২ রাত প্রায় ৯টায় সীতাকুণ্ডের বিএম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে আগুন
- হাইড্রোজেন পারক্সাইডের কনটেইনার ভুল লেবেল করা ছিল; পানিতে নেভাতে গিয়ে বিস্ফোরণ
- অন্তত ৪৯ জন নিহত — ৯ জন দমকলকর্মীসহ; আহত প্রায় ৩০০; কনটেইনার ৫০০ ফুট উড়ে যায়
- ২৪ ঘণ্টার বেশি আগুন জ্বলে; তদন্তে ডিপোতে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অভাব ধরা পড়ে
২০২২ সালের ৪ জুন শনিবার রাত প্রায় ৯টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে আগুন লেগে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক বিশাল বিস্ফোরণ পুরো এলাকা কাঁপিয়ে দেয় — বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত শোনা যায় এবং আশপাশের ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায়।
বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি
আগুন নেভাতে আসা ফায়ারফাইটাররা হাইড্রোজেন পারক্সাইডের কনটেইনারে পানি ঢেলে দেওয়ায় বিক্রিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটে; একটি কনটেইনার ৫০০ ফুট উড়ে যায়। আগুনে অন্তত ৪৯ জন প্রাণ হারান, যাদের ৯ জন দমকলকর্মী। আহত প্রায় ৩০০ জন; অনেকে মারাত্মক দগ্ধ। শত শত শ্রমিক ও উদ্ধারকর্মী আটকা পড়েন।
কারণ ও অভিযোগ
তদন্তে দেখা যায়, ডিপো কর্তৃপক্ষ কনটেইনের ভেতরের রাসায়নিক সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসকে জানায়নি এবং লেবেল ভুল ছিল। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘নিরাপত্তা পরিকল্পনার অভাব’ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। নিয়মানুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গার্মেন্টস পণ্য থেকে দূরে রাখার কথা ছিল।
পরিণতি
আগুন ৩৬ ঘণ্টার বেশি জ্বলতে থাকে; ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ তহবিল গঠিত হয় এবং দীর্ঘ তদন্তের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ঘটনা কনটেইনার ডিপোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের চাপ তৈরি করে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার।
প্রশ্নোত্তর
বিস্ফোরণ এত বড় হলো কেন?
ভুল লেবেল করা হাইড্রোজেন পারক্সাইড কনটেইনে ফায়ারফাইটাররা পানি ঢেলে দেন; তা অক্সিডাইজিং রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটায়।
নিহতদের মধ্যে কারা ছিলেন?
শ্রমিক ও দমকলকর্মী; দমকলকর্মী সংখ্যা অন্তত ৯। আহতদের অনেকে দগ্ধ; গুরুতরদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।