ইতিহাসনিশ্চিত [B]

ভোপাল গ্যাস বিপর্যয় ১৯৮৪: রাসায়নিক ফাঁসে হাজার হাজার প্রাণহানি

1 মিনিট পাঠ
ভোপাল গ্যাস বিপর্যয় ১৯৮৪: রাসায়নিক ফাঁসে হাজার হাজার প্রাণহানি — ছবি: PMC (National Library of Medicine) — Bhopal gas tragedy: review of the disaster (2004)
ভোপাল গ্যাস বিপর্যয় ১৯৮৪: রাসায়নিক ফাঁসে হাজার হাজার প্রাণহানি — ছবি: PMC (National Library of Medicine) — Bhopal gas tragedy: review of the disaster (2004)
এক নজরে
  • ৩ ডিসেম্বর ১৯৮৪ সালে মধ্যরাতে ভোপালের ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে গ্যাস ফাঁস হয়ে যায়
  • প্রায় ৪৫ টন বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানেট (এমআইসি) গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়
  • সরকারি হিসাবে সঙ্গে সঙ্গে ২ হাজার ২৫৯ জন মারা যান; পরবর্তী গবেষণায় মৃত্যুর সংখ্যা হাজার হাজারে পৌঁছায়
  • সরকারি পরিসংখ্যানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার; কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁতই ছিল মূল কারণ

১৯৮৪ সালের ২-৩ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেডের কীটনাশক কারখানায় এক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। স্টোরেজ ট্যাংকে পানি ঢোকার ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার চাপ বাড়ে, এবং সারারাত ধরে প্রায় ৪৫ টন বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস বায়ুতে ফাঁস হয়ে যায়। গ্যাস ক্ষয়িষ্ণু রাতে ঘনবসতিপূর্ণ নিচু এলাকার উপর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্ত

ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ শ্বাসরুদ্ধ ও চোখ জ্বালায় আক্রান্ত হন; সরকারি হিসাবে সঙ্গে সঙ্গে ২ হাজার ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়। অধ্যাপক ও গবেষকদের পরবর্তী অনুমানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা হাজার হাজার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার। বহু মানুষ শ্বাসনালী, চোখ ও ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মে জন্মগত জটিলতাও দেখা গেছে।

কারণ ও উত্তরদায়িত্ব

তদন্তে উঠে আসে সেফটি ব্যবস্থার ঘাটতি — কুলার ও স্ক্রাবার নিষ্ক্রিয় ছিল, সতর্কবার্তা ও জরুরি ব্যবস্থা অপ্রতুল। ইউনিয়ন কার্বাইডের নিরাপত্তা মান আমেরিকায় থাকা বোন কারখানার চেয়ে দুর্বল ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ১৯৮৯ সালে কোম্পানি ৪৭ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের সম্মত হয়, কিন্তু বিতর্ক ادامه থেকেছে।

প্রভাব ও পরবর্তীকাল

ভোপাল দুর্ঘটনা বিশ্বের সর্ববৃহৎ শিল্প বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত; ওয়ারেন অ্যান্ডারসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। পরে ভারত ও বিশ্বে রাসায়নিক নিরাপত্তা আইন আরও কঠোর হয়। ভোপালের দূষিত পানিতে এখনো হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।

পাঠ

ভোপাল শেখায়, শিল্প দুর্ঘটনার খরচ মানুষকে দিতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে; নিরাপত্তার জন্য বিনিয়োগ ও সঠিক নজরদারি কখনোই এড়িয়ে চলা উচিত নয়।

সূত্র: ন্যাশনাল মেডিক্যাল লাইব্রেরি (পিএমসি), গ্রিনপিস, উইকিপিডিয়া।

প্রশ্নোত্তর

ভোপাল গ্যাস ফাঁসের কারণ কী ছিল?

কারখানার স্টোরেজ ট্যাংকে পানি ঢুকিয়ে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি; অতিরিক্ত চাপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কুলার ব্যর্থ হওয়ায় গ্যাস বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়?

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ইউনিয়ন কার্বাইড ৪৭ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়; কিন্তু অনেক ক্ষতিগ্রস্তই তখন পর্যন্ত সঠিক ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি ওঠে।