২০১৪ সালের ৮ মার্চ: মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৩৭০ বিমানের হারানো ও এক হাজার ছয় দিনবর্ষের অনুসন্ধান

- ২০১৪ সালের ৮ মার্চ কুয়ালামপুর থেকে বেইজিংয়ের পথে বোয়িং ৭৭৭ বিমানে ২২৭ যাত্রী ও ১২ জকরি ছিলেন; বিমানটি অদৃশ্য হয়
- উড়ানোর প্রথম আটত্রিশ মিনিট পর ট্রান্সপন্ডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে অবস্থান সংকেত বন্ধ হয়ে যায়
- রাডার ও ইনমারস্যাট স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণে বিমানটি আরও প্রায় সাত ঘণ্টা উড়ে সুমাত্রার উত্তর প্রান্তে পৌঁছেছিল বলে জানা যায়
- অনুসন্ধান ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি স্থগিত হয়; জলতলের বিস্তারিত সার্চে ৭১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জরিপ করা হয়েছিল
- সোনার ছবিতে শনাক্ত ৬৬১টি স্থানের অগ্রাধিকার পাওয়া স্থানগুলো গবেষণা করেও বিমানের অবশিষ্টাংশ মেলেনি; চারটি পুরোনো জাহাজ চিহ্নিত হয়
২০১৪ সালের ৮ মার্চ ভোরে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান ভারত মহাসাগরের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। ছিলেন ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু। উড়ানোর প্রথম আটত্রিশ মিনিট পরেই ট্রান্সপন্ডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে অবস্থানসংকেত আসা বন্ধ হয়ে যায়।
তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে রাডার ও স্যাটেলাইট তথ্য থেকে দেখা যায় বিমানটি অবস্থানসংকেত হারানোর পরও আরও প্রায় সাত ঘণ্টা উড়তে থেকেছিল। তার সর্বশেষ নিশ্চিত অবস্থান ছিল সুমাত্রার উত্তর প্রান্ত, যেখান থেকে ছয় ঘণ্টা পর বিমানটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যায় এবং তারপর আর কোনো সংকেত মেলে না।
দুর্ঘটনার পর উপরের সমুদ্রে ৫২ দিনের অনুসন্ধান পরিচালিত হয়, যা কয়েক মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড সমন্বয়ে জলতলের সার্চ শুরু করে। এই জরিপে ভারত মহাসাগরের ৭১ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রতল মাপা হয়, যা একক কোনো জলসর্বেষণের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
উচ্চ নিখুঁততার সোনার সার্চ প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় শুরু হয় এবং ২০১৫ সালে ত্রিদেশীয় মন্ত্রীদের সিদ্ধান্তে তা ১২০ হাজার বর্গ কিলোমিটারে বাড়ে। সার্চে প্রায় ৬৬১টি স্থান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়, যার মধ্যে ৮২টি অগ্রাধিকার পায়। এগুলো পরীক্ষা করেও বিমানের নিশ্চিত অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায় না; বরং চারটি পুরোনো জাহাজ শনাক্ত হয়।
২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সরকার ঘোষণা দেয় যে এলাকা শেষ হওয়ায় অনুসন্ধান স্থগিত হচ্ছে। বিমানের অবস্থান নির্দিষ্ট করার নতুন প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে শেষ না স্থগিত বলা হলেও, এক হাজার ছয় দিনবর্ষ পরেও রহস্যের সমাধান মেলেনি।
সূত্র: উইকিপিডিয়া, অস্ট্রেলিয়ান পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড, অস্ট্রেলিয়ান প্রচারমাধ্যম খবর।
প্রশ্নোত্তর
ফ্লাইট ৩৭০ বিমানটি কোথায় হারিয়ে গেল?
বিমানটি ভারত মহাসাগরের ওপর দক্ষিণ দিকে অতিক্রম করার পথে ট্রান্সপন্ডার থেকে অবস্থানসংকেত বন্ধ হয়ে যায়। রাডার তথ্যে সুমাত্রার উত্তর প্রান্তের শেষ অবস্থান নিশ্চিত হয় এবং ধারণা করা হয় বিমানটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে পতন করেছে।
উড়ানোর পর কত সময় পর্যন্ত বিমানের সংকেত পাওয়া গেছে?
স্বয়ংক্রিয় অবস্থানসংকেত দেওয়ার ব্যবস্থাগুলো উড়ানোর প্রথম আটত্রিশ মিনিট পর বন্ধ হয়ে যায়। তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা যায় বিমানটি ওই সময়ের পরও প্রায় সাত ঘণ্টা উড়তে থেকেছিল, যার শেষে সুমাত্রার উত্তর প্রান্তে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়েছিল।
অনুসন্ধান কত দিন চলেছিল এবং কী পাওয়া গেল?
অনুসন্ধান শুরু হয় ২০১৪ সালের ৮ মার্চে এবং ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিত হয়, মোট এক হাজার ছয় দিনবর্ষ। জলতলের উচ্চ নিখুঁততার সার্চে ১২০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা দেখা হয়, অথচ বিমান বা তার নিশ্চিত অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।
নির্ভরযোগ্যতার স্তর: B · স্কোর 0.9
মন্তব্য দেখুন / লিখুন
মন্তব্য লিখতে চাইলে নিচের ঘরে লিখুন। প্রতিটি মন্তব্য যাচাই করার পরেই প্রকাশিত হয়।





