এইচওয়ানএনওয়ান (২০০৯): সুয়াইন ফ্লু-এর বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা

- ২০০৯ সালের এপ্রিলে মক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হয় এইচওয়ানএনওয়ান (সোয়াইন) ইনফ্লুয়েঞ্জা
- ১১ জুন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চান এই রোগকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেন
- ঘোষণার সময় ৭৪টি দেশে প্রায় ৩০ হাজার ল্যাব-নিশ্চিত আক্রান্তের খবর ছিল
- অধিকাংশ আক্রান্ত সুস্থ হয়ে ওঠেন; চিকিৎসা ও টিকা কার্যক্রম মহামারি দমন করে, পরে ২০১০ সালের জুনে ঘোষণা প্রত্যাহার হয়
২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে নতুন এক ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস — এইচওয়ানএনওয়ান — দ্রুত শনাক্ত হয়। ভাইরাসটিতে মানুষের নমুনায় শূকর, পাখি ও মানুষ-উভয়ের জিন ছিল; তাই একে ‘সোয়াইন ফ্লু’ বলে ডাকতে শুরু করেন অনেকে, যদিও খাবার বা শূকরের সঙ্গে সরাসরি যোগে এটি ছড়ায় না।
দ্রুত বিস্তৃতি
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই রোগ বিশ্বের ৭৪টি দেশে পৌঁছে যায়। ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি হয়ে ওঠে, এবং ডব্লিউএইচও একে ষষ্ঠ পর্যায় — পূর্ণাঙ্গ মহামারি ঘোষণা করে। ১১ জুন ২০০৯ সালে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক মার্গারেট চান ঘোষণা দেন যে বিশ্ব এখন একটি নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রাদুর্ভাবের মুখে; তবে তিনি জোর দেন, মহামারি মানেই ভয়াবহ রোগ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তারই মাপকাঠি।
লক্ষণ ও ঝুঁকি
আক্রান্তদের সাধারণ লক্ষণ — জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা — মৌসুমি ফ্লুর মতোই। তবে তরুণ ও সুস্থ মানুষ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষগুলো বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন; মৃত্যুর অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় রোগ সংক্রমণও (ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া) ভূমিকা রাখে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো স্কুল বন্ধ, গণজমায়েত সীমিতকরণ ও ভ্রমণ পরামর্শ নেয়। টিকা নির্মাতারা কয়েক মাসেই হাজারের বেশি ডোজ তৈরি করেন; ২০১০ সালের শুরুতে ভ্যাকসিন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চলে। ডব্লিউএইচও ২০১০ সালের আগস্টে মহামারি ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেয়।
পাঠ
এইচওয়ানএনওয়ান প্রমাণ করে একটি নতুন ভাইরাস কত দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে এবং প্রস্তুতি কতটা জরুরি। টিকা, স্বাস্থ্য নজরদারি ও জনসচেতনতার সমন্বয়েই একে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
এইচওয়ানএনওয়ান ফ্লু কীভাবে ছড়ায়?
আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির ছোট ফোঁটার মাধ্যমে; দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ও হাত ধোয়া ছিল প্রধান প্রতিরোধ উপায়।
এই মহামারিতে প্রাণহানি কী ছিল?
ডব্লিউএইচও অনুমান করে এতে বিশ্বজুড়ে ১ লক্ষ ৮৪ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৯৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, যা সাধারণ ফ্লুর মৌসুমি প্রাণহানির চেয়ে কম ছিল।