ঘূর্ণিঝড় মহাসেন ২০১৩: পটুয়াখালীতে আঘাত, দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

- ১৬ মে ২০১৩ সকালে পটুয়াখালী উপকূলে আঘাত; পশ্চিম-মধ্য উপকূলের ১০ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত
- ১৩ জন প্রাণ হারান (আইএফআরসি ডিআরইএফ); ১২,৮৫,৫০৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
- আঘাতের আগে প্রায় ১১ লাখ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়
- ৪৯,১৭৮টি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়; সুন্দরবন কিছুটা ঝড়ের তীব্রতা কমিয়ে দেয়
২০১৩ সালের ১৬ মে ভোরে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন পটুয়াখালী উপকূলে আঘাত হানে। বঙ্গোপসাগরের এই ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বহন করছিল এবং পশ্চিম-মধ্য উপকূলের ১০টি জেলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
ক্ষয়ক্ষতি
আইএফআরসির ডিআরইএফ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়ে কমপক্ষে ১৩ জন প্রাণ হারান এবং মোট ১২,৮৫,৫০৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সম্পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ৪৯,১৭৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলীয় জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধানক্ষেত ও মাছ ঘেরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
উদ্ধার ও সতর্কতা
ঝড় আঘাত হানার আগে প্রশাসন প্রায় ১১ লাখ মানুষকে সাইক্লোন শেল্টার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এই প্রস্তুতি মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা উপকূলীয় গ্রামে আগাম সতর্কতা বার্তা পৌঁছে দেন। সুন্দরবনের গভীর ম্যানগ্রোভ বনও কিছুটা ঝড়ের তীব্রতা কমিয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পাঠ
মহাসেন আবারও দেখিয়ে দেয়, সাইক্লোন সতর্কতা ও স্থানান্তর ব্যবস্থা কতটা জীবন বাঁচাতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক ধাক্কা উপকূলীয় কৃষকদের দীর্ঘ দিন ভোগায়। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: আইএফআরসি (রিলিফওয়েব), উইকিপিডিয়া।
প্রশ্নোত্তর
মহাসেন কত মানুষের প্রাণ নিয়েছিল?
আইএফআরসির ডিআরইএফ প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ১৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়; সংখ্যা পরবর্তীতে সামান্য বেড়েছিল।
এত বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেল কীভাবে?
আগাম সতর্কতা, প্রায় ১১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং সাইক্লোন শেল্টার ব্যবহারের কারণে মৃত্যু কম ছিল।