ইতিহাসনিশ্চিত [B]

এপ্রিল ২০১৮: চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন

1 মিনিট পাঠ
এপ্রিল ২০১৮: চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন — ছবি: The Daily Star — Sought reform, got abolition (2018)
এপ্রিল ২০১৮: চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী আন্দোলন — ছবি: The Daily Star — Sought reform, got abolition (2018)
এক নজরে
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু, ৮ এপ্রিল সারাদেশে বিস্তৃত
  • দাবি: সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ
  • ৮ এপ্রিল রাতে শাহবাগে পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও ছাত্রলীগের হামলায় ১৬০-র বেশি আহত
  • ৩ অক্টোবর ২০১৮ সরকার ৯ম-১৩তম গ্রেডে সব কোটা বাতিলের সার্কুলার জারি করে

২০১৮ সালের চাকরি সংকটের জেরে দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রচিত একটি বিশাল পরিবর্তনের গল্প কোটা সংস্কার আন্দোলন। শুরুটা ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর শাহবাগে অবস্থান; আন্দোলন ৮ এপ্রিল নাগাদ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চাপে ফেলে।

দাবি ও পটভূমি

সেই সময় সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ পদ কোটা-বরাদ্দ ছিল — মুক্তিযোদ্ধা, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন কোটায়। শিক্ষার্থীদের যুক্তি ছিল, মেধাবী দরখাস্তগুলো প্রতিযোগিতাবিহীন কোটার কাছে হার মানে। আন্দোলনে দাবি করা হয় কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে এবং মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করতে।

সহিংসতা ও প্রতিক্রিয়া

৮ এপ্রিল রাতে সরাসরি শাহবাগে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছোড়ে; সংগঠনগুলোর হিসাবে তাতে ও তল্লাশিতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। একই রাতে ছাত্রলীগের সদস্যদেরও হামলার অভিযোগ ওঠে। অচিরেই অন্যতর সংকট — মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর ‘রাজাকার সন্তান’ মন্তব্য — আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সারাদেশে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে হাইওয়ে অবরোধ করে।

পরিণতি

সরকার ১০ এপ্রিল ঘোষণা দেয় কোটা বাতিল করা হবে; ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক সার্কুলারে ১ম ও ২য় শ্রেণির (৯ম-১৩তম গ্রেড) নিয়োগে সব ধরনের কোটা উঠে যায়। আন্দোলন চলে যায়, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — কোটার পুনর্বহাল ও সমাধানের গতিধারা। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের আরেকটি বৃহত্তর কোটা আন্দোলনের বীজ বহন করে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া, দি ডেইলি স্টার, দি ডিপ্লোম্যাট।

প্রশ্নোত্তর

কোটা কী এবং এ নিয়ে আপত্তি কেন ছিল?

মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আঞ্চলিকসহ বিভিন্ন বিভাগের জন্য মোট ৫৬% পদ আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিল; মেধাতালিকাকে এতে ন্যূনতম রাখা হতো, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছিল।

সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী ছিল?

২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার পরে অক্টোবারে সার্কুলার জারি হয় — ১ম ও ২য় শ্রেণির (৯ম-১৩তম গ্রেড) নিয়োগে কোটা বাতিল।